সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা ও ক্রীড়া শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হলে বিশেষায়িত শিক্ষকের প্রয়োজন হবে এবং সে ক্ষেত্রে শুধু প্রাথমিক শিক্ষাখাতেই নতুন করে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এর মাধ্যমে এসব বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। এ লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সংক্রান্ত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায় সেসব বিষয়ে সরকার একসঙ্গে কাজ করতে চায়।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এজন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলার বিষয়গুলো চারটি অধ্যায়ের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।