২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে। সারাদেশে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর পেছনে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়ই মূলত দায়ী। এ বিভাগে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে। অর্থাৎ মানবিকের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি অকৃতকার্য হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক দুর্বল ফল করেছে। এসব বিষয়ে বেশি অকৃতকার্য হওয়ায় বিভাগটির সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলেও।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে বোর্ড চেয়ারম্যানরা বিভাগভিত্তিক ফলাফল নিয়ে এসব তথ্য জানান।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মানবিকে পাসের হার ৪৮.৭৪ শতাংশ
এবার সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন পরীক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন। বিভাগটিতে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ফেলের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
অর্থাৎ মানবিক বিভাগের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি পাস করতে পারেনি।
বিজ্ঞানে পাস ৮০.৬৪ শতাংশ
বিজ্ঞান বিভাগে এবার তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। এ বিভাগ থেকে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন পাস করেছে। ফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষায় পাস ৬৪.২৯ শতাংশ
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, মানবিক বিভাগে এবার ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ায় ফেলের হার বেড়েছে। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে তুলনামূলক ভালো করায় তাদের পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও ভালো হয়েছে।
তিনি জানান, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেন ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল ফল করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কীভাবে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।