মতিঝিল আইডিয়ালের ২৩ শিক্ষকের বিএড সনদ জাল, দুদকে তলব

ভুয়া ও জাল বিএড সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ শিক্ষককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১ অক্টোবর এসব শিক্ষককে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিএড সনদের মূল কপি, এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

দুদক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি করছেন—এমন অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সংগ্রহের পর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভুয়া বা জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা কিংবা চাকরি করার অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ২৩ শিক্ষকের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে তাদের নামের তালিকাসহ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে শিক্ষকদের কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিএড সনদের মূল কপি, এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা বা প্রদর্শন করতে হবে।

কোনো শিক্ষক জরুরি কারণে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর বিএড সনদের মূল কপি, এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অধ্যক্ষের জিম্মায় রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদকের নোটিশে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—রুবিনা সুলতানা, মো. সুলাইমান, তাহমিনা ইয়াছমিন, মোহা. কাবিউল ইসলাম, সেবিকা রানী পাল, মোছা. নাহিদা আখতার, সালেহ আহমেদ, মো. মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহফুজা হাসনা, সালমা খাতুন, সুস্মিতা আক্তার, মো. আজিবর রহমান শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু বকর, মহিউদ্দিন, আজমল হোসেন, মো. ফরিদুর রহমান শেখ, নুরজাহান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল আমীন খান, মোহাম্মদ আফছার উদ্দিন ও এন. এম. মঞ্জুরুল হক।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব শিক্ষকের বিএড সনদ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সনদগুলো জাল কি না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কোনো অনিয়ম করেছেন কি না, সে বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। তাই অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২৩ শিক্ষকের বক্তব্য গ্রহণের পর তাদের সনদের বৈধতা এবং অভিযোগের অন্যান্য দিক যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।