শিক্ষকদের কর্মবিরতি

পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে সরকার।

রোববার (৩০ জুন) বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু তাদের পক্ষ থেকে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, আমাদের দেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ, সেখানে সকলের রাজনৈতিক এবং বাক স্বাধীনতার অধিকার আছে। এর মাধ্যমে কিন্তু আমরা প্রমাণ পাই যে, আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সরকারের কর্মচারী নন, কর্মকর্তা নন। সরকারের যে বিধি-নিষেধ বা শৃঙ্খলাজনিত যে সমস্ত বিধি-বিধানগুলো আছে সেগুলো দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বারিত নন।

তিনি বলেন, যেহেতু তারা বারিত নন সেহেতু তারা একটা ঘোষণা দিয়েছেন। এই অচলাবস্থা আগামীকাল থেকে যদি শুরু হয়ে থাকে তাহলে আমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবস্থা নিব। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্তে যাব।

তিনি বলেন, সর্বজনীন পেনশনের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছেন। তুলনামূলক চিত্র দেখিয়েছেন। এখানে আমরাও আমাদের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছি। জিনিসগুলো আলোচনার পর্যায়ে এখনও আছে। কিন্তু সিদ্ধান্তটি আসলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নয়। সিদ্ধান্তটি অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত এবং সরকারের যে সার্বিক পলিসি ডিসিশন সেটির একটি অংশ। এটা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। কারণ, স্বায়ত্তশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য বিষয়টি প্রযোজ্য। তবে, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচনার জন্য এসেছে সেহেতু আমরা বিষয়টা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করতে পারি।'

উল্লেখ্য, সর্বজনীন পেনশনের 'প্রত্যয় স্কিনকে' বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার সারা দেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বৃন্দ। 

দাবি আদায়ে সোমবার (১ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতিরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও এই কর্মসূচি পালন করছেন।