ব্যাপক সমালোচনার মুখে ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রদন পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপথি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ জোটের শরিকদের তোপের মুখে পড়েন।
তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের প্রধান শরিক কংগ্রেস এবং বাম দলগুলো একজন জ্যোতিষীকে সরকারি উচ্চপদে বসানোর কড়া সমালোচনা করে। ভিসিকে (VCK) বিধায়ক বাণী আরসু বলেন, ‘একটি আধুনিক সরকারের উচিত জ্যোতিষশাস্ত্র নয়, বরং বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারাকে প্রাধান্য দেওয়া। জনগণের অর্থে কুসংস্কারকে উৎসাহিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম একই সুরে বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হলো বৈজ্ঞানিক মানসিকতার প্রসার ঘটানো। রাজকোষের টাকা ব্যবহার করে এমন নিয়োগ কুসংস্কারের প্রচার ঘটাবে।’
জ্যোতির্বিদ্যায় প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেল ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সেলিব্রিটি ও রাজনৈতিক জ্যোতিষী হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে দিল্লিতে থিতু হওয়ার পর তিনি নাম পরিবর্তন করে ‘রাধান পণ্ডিত’ রাখেন।
জানা যায়, ভারতের মূলধারার প্রায় সব রাজনৈতিক দল- বিজেপি, কংগ্রেস, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় তার পরামর্শ নিয়েছেন। তিনি বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং এবারের নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে জয়ী হবে বলে আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয় পায় এবং কংগ্রেসসহ অন্যান্য ছোট দলের সমর্থনে সরকার গঠন করে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের পথচলা বেশ ধুমধাম করে শুরু হলেও প্রথম নিয়োগ নিয়েই এমন বিতর্কে তাকে বড় ধরণের ইমেজ সংকটের মুখে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত জোটের ঐক্য বজায় রাখতে এবং সমালোচনার মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হলেন দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয়।