বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সি প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারী প্রাঞ্জল থাকরালকে গ্রেফতার করেছে ভারতের পুলিশ। গত শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে তাকে আটক করা হয়। এই নিয়ে মামলাটিতে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে পরিচিত অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে হামলাটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রাঞ্জল। হামলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যবস্থা করা, বন্দুকধারীদের অর্থের জোগান দেওয়া এবং একজন হামলাকারীকে দ্বিতীয় পিস্তল সরবরাহ করার দায়িত্বও ছিল তার ওপর।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে অনিল পণ্ডিত হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে অনিল ও প্রাঞ্জল একটি গোপন বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখতেন। প্রাঞ্জলের ফোন থেকে উদ্ধার করা কথোপকথন এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অনিলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা।
কে এই প্রাঞ্জল থাকরাল?
২২ বছর বয়সি প্রাঞ্জল প্রকৌশলে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। চলতি বছরের মার্চে জামিনে মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি ভারতের পানিপথে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় কারাগারে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই হামলাটিও অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে চালানো হয়েছিল।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পরপরই মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনিলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন প্রাঞ্জল। বিদেশে আত্মগোপনে থাকা মামলার প্রধান অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের সন্ধান পেতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করছে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
রোববার প্রাঞ্জলকে কিল্লা আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চে হাজির করা হলে আদালত তাকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলা শেষে পুষ্পা নারসি পার্ক বা পুষ্পা নারসি গ্রাউন্ড থেকে বের হওয়ার সময় ৩৬ বছর বয়সি অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় অন্তত দুই ব্যক্তি।
মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আন্ধেরিতে মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে তারা সুরাটে যান এবং সেখান থেকে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে ওঠেন। দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর চেষ্টা করার সময় রাজস্থানের কোটায় তিন সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিত এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, গ্যাংটির পরিকল্পনায় প্রথমে অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা ছিল। তবে তার নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করা হয়।
প্রাঞ্জলকে গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা মনে করছেন, তার কাছ থেকে পাওয়া ডিজিটাল যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যের মাধ্যমে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা অনিল পণ্ডিতের অবস্থান এবং হামলার পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি