কারাগারের কক্ষকে বিলাসবহুল স্যুটের মতো ব্যবহার করছেন মার্কিন র্যাপার শন ডিডি কম্বস, এমন অভিযোগ উঠে এসেছে এনবিসি নিউজের ডেটলাইন-এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত কাজ করানোর জন্য কয়েকজন বন্দীকে অর্থও দিতেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউ জার্সির ফোর্ট ডিক্স কারাগারে যাওয়ার পর কম্বসের চারপাশে একদল বন্দীকে ব্যক্তিগত কর্মীর মতো কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের কারও কাজ ছিল তার বিছানা গোছানো, টয়লেট ও গোসলের জায়গা পরিষ্কার করা, আবার কেউ তাকে ম্যাসাজ দিতেন। কিছু বন্দী কারাগারের নির্ধারিত খাবারের বাইরে তার জন্য খাবারও রান্না করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ডেটলাইন-এর প্রতিবেদক ফোর্ট ডিক্স কারাগারের কয়েকজন বন্দীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্বসের হয়ে কাজ করা বন্দীদের কারাগারের ভেতরের কেনাকাটার হিসাব বা কমিশারি অ্যাকাউন্টে অর্থ দেওয়া হতো।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কারাগারে মাদক পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরও কম্বস নিয়মিত অ্যালকোহল, বিষণ্নতার ওষুধ রেমেরন, মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। এসব জিনিস সাধারণত বন্দীদের অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কারা কর্তৃপক্ষ চলমান বন্দীদের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এনবিসি নিউজকে এক বন্দী এমন একটি সামাজিকমাধ্যম অ্যাকাউন্টও দেখিয়েছেন, যেটি কম্বস কারাগারের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটিতে কোনো প্রোফাইল ছবি ছিল না, তবে কম্বসের জনসংযোগ প্রতিনিধিকে ওই অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোর্ট ডিক্সে যাওয়ার আগে কম্বস এক বছরেরও বেশি সময় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে ছিলেন। এরপর তার সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে তার মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ ২০২৮ সালের ২১ জানুয়ারি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারে থাকা অবস্থায় কম্বসের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে অন্য এক বন্দীর সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর পর তাকে একাকী কারাবাসে পাঠানো হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার কারণে তার মুক্তির তারিখ প্রায় এক মাস পিছিয়ে ২০২৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছিল বলেও তখন দাবি করা হয়েছিল। পরে আবার তারিখ পরিবর্তিত হয়ে জানুয়ারিতে ফিরে আসে।
২০২৫ সালের দীর্ঘ বিচার শেষে কম্বস পতিতাবৃত্তিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিদের পরিবহনের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সংঘবদ্ধ অপরাধের ষড়যন্ত্র ও যৌন পাচারের অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি। পরে তাকে ৫০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই সাজা নিয়ে তার করা আপিলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
ডেটলাইন-এর প্রতিবেদন নিয়ে কম্বসের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে দ্য হলিউড রিপোর্টারের মন্তব্য চাওয়ার জবাব পাওয়া যায়নি। কারাগারের সাধারণ বন্দীদের সঙ্গে তার অবস্থান পরিবর্তনের খবর সম্পর্কেও প্রতিনিধি নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার