রাজনীতির ময়দান থেকে রুপোলি পর্দা সবখানেই ছিল যার অবাধ বিচরণ, সেই কিংবদন্তি অস্কারজয়ী লেখক, সাংবাদিক ও চিত্রনাট্যকার জেরেমি লার্নার মারা গেছেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
জেরেমির ছেলে জেসি লার্নার বাবার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতাজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তার প্রয়াণ হলেও কেন ১২ দিন পর এই খবর প্রকাশ্যে এল, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
জেরেমি লার্নার আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার রাজনৈতিক ড্রামা ‘দ্য ক্যান্ডিডেট’-এর জন্য। ১৯৭৩ সালে এই সিনেমার জন্য সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে অস্কার জিতেছিলেন তিনি। ছবিটি মূলত তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকেই লেখা।
১৯৬৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সিনেটর ইউজিন ম্যাকার্থির স্পিচ রাইটার (বক্তৃতা লেখক) হিসেবে কাজ করেছিলেন লার্নার। সেই অভিজ্ঞতাই তিনি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন পর্দার নায়ক রবার্ট রেডফোর্ডের চরিত্রে।
চিত্রনাট্যকার পরিচয়ের বাইরেও জেরেমি লার্নার সাংবাদিক হিসেবে ছিলেন সমাদৃত। ‘লাইফ’, ‘দ্য নিউ রিপাবলিক’ এবং ‘হার্পারস’-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব সংবাদপত্রে নিয়মিত লিখতেন তিনি। ১৯৬৮ সালের মেক্সিকো সিটি অলিম্পিক থেকে শুরু করে মার্কিন সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে তার অজস্র নিবন্ধ পাঠকমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
নিজের লেখা উপন্যাস ‘ড্রাইভ, হি সেড’-এর রূপান্তরের মাধ্যমেই তার চিত্রনাট্যকার হিসেবে যাত্রা শুরু। ১৯৭১ সালে এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটেছিল কিংবদন্তি অভিনেতা জ্যাক নিকোলসনের। জেরেমি লার্নারের প্রয়াণে হলিউড ও সাংবাদিকতা জগতের একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান হলো।