ডলি জহুর আসামি হতে পারেন: সালমান শাহর মা

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁর মা নীলা চৌধুরী। এবার ছেলের মৃত্যুর মামলা নিয়ে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কারা সাক্ষী হতে পারেন এবং কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন—সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের খল অভিনেতা ডিপজল, অভিনেত্রী ডলি জহুর ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানুর প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি।

গত ১০ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে আটক করা হয়। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, ডনকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিনেতা ডিপজলের ভূমিকা ছিল।

ডিপজলের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা না হলেও মামলার প্রয়োজনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ করার কারণে ডিপজল সালমান শাহর মৃত্যু এবং সে সময়ের চলচ্চিত্রজগতের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে থাকতে পারেন।

নীলা চৌধুরীর দাবি, ডন দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য ডিপজল জানতেন বলেই তাঁকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সহায়তা করেছেন বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে ডিপজলকে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে ডনকে ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডিপজলকে ধন্যবাদও জানান সালমান শাহর মা।

তিনি বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর সময় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই নিয়মিতভাবে কাজ করতেন। ফলে সে সময়কার বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ জ্ঞান থাকতে পারে। তাই মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী ডলি জহুরের নামও উল্লেখ করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ডলি জহুর বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা প্রয়োজন।

নীলা চৌধুরী আরও বলেন, ডলি জহুর ও বাদল খন্দকারসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজন সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন বলে তিনি মনে করেন। তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য বের করা দরকার। প্রয়োজন হলে তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে মামলায় আসামি করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারেন বলে জানান তিনি। এ সময় ডলি জহুরও আসামি হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন সালমান শাহর মা।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নীলা চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, সালমান শাহ হত্যা মামলার একজন আসামি কীভাবে এফডিসিতে এসে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেন। এ ক্ষেত্রে কেউ তাঁকে সহযোগিতা করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শিবা শানুসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েকজন ডনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, যাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা, তাঁকে যদি এফডিসিতে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে তাঁর পেছনে কারা ছিলেন, সেটিও খুঁজে বের করা দরকার।

এদিকে ডন হক গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মামা কুমকুমকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, তাঁর ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হলেও সম্প্রতি সেই তৎপরতা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে সালমান শাহর ভক্তদেরও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব হুমকির কিছু স্ক্রিনশট তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান।

নীলা চৌধুরী বলেন, হুমকি দিয়ে সালমান শাহ হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া থামানো যাবে না। তিনি মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত তদন্ত শেষে হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালতে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় তাঁর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আবদুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।