অভিনেতা টাইগার শ্রফকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে ট্রেনে যাত্রার সময় তাদের আটক করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন হরিয়ানার এবং একজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাদের তিনজনেরই কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে, অভিযুক্ত বন্দুকধারীদের প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আসে। তাদের ধরতে মুম্বাই পুলিশ তল্লাশি অভিযান জোরদার করে। প্রকাশিত ছবির একটিতে দুজনকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় ছিল কালো টুপি। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সন্দেহ, হামলায় অংশ নেওয়া বন্দুকধারীরা প্রশিক্ষিত ছিল। হামলার আগে তারা অভিনেতার চলাফেরার ওপর নজরদারি চালিয়েছিল।
সূত্রের দাবি, টাইগার শ্রফের সাপ্তাহিক রুটিন পর্যবেক্ষণ করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিনেতা প্রতি রোববার জুহুর ফুটবল মাঠে যান—এ তথ্য জানতো হামলাকারীরা। মাঠ থেকে গাড়িতে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য তারা তার গতিবিধি অনুসরণ করছিল। গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিত পথে পালিয়ে যায়। তারা মুম্বাইয়ের এসভি রোড ধরে ভিলে পার্লে ও আন্ধেরি হয়ে এগিয়ে যায়। পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে তারা বোরিভালিগামী একটি ট্রেনে ওঠে।
এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এড়াতে অভিযুক্তরা পরবর্তী সময়ে মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটে প্রবেশ করেছিল।
ফুটবল মাঠ থেকে বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে ফেরার পথে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা। তবে ষষ্ঠ গুলিটি ছোড়ার মুহূর্তে অস্ত্র জ্যাম হয়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
ঘটনার সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে আসা তিন দুষ্কৃতকারীর মধ্যে দুজন টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে অভিনেতার গাড়িচালক ফেরদৌসসহ দুজন আহত হন। চালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর টাইগার নিজেই গাড়ির চালকের আসনে বসে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
কেন টাইগারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হলো?
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তি অডিও বার্তার মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেন। ওই বার্তায় দাবি করা হয়, বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে টাইগারের ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে অডিও বার্তায় করা এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার পর দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুম্বাই পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, টাইগার শ্রফ বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।