থাইল্যান্ডের ড্রেনে মিললো যুক্তরাজ্যের অভিনেতার মরদেহ

থাইল্যান্ডের ফুকেটে নর্দমা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যুক্তরাজ্যের ৩৩ বছর বয়সী অভিনেতা জর্ডান রাইটের মরদেহ। গত ১৪ মার্চ দুপুরে তার মর দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার অভিযান ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য, কারণ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাং তাও সৈকতের কাছের একটি নর্দমা থেকে এক শ্রমিক প্রথমে মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে মৃত্যুর আগে জর্ডান রাইটকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেছে। তাকে এলোমেলোভাবে দৌড়াতে ও অস্থিরভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। উদ্ধার করার সময় তিনি নর্দমায় উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। তার পরনে ছিল ধূসর শার্ট ও কালো প্যান্ট, তবে পায়ে কোনো জুতা ছিল না।

পুলিশ বলছে, মরদেহটি কিছু সময় ধরে ওই অবস্থায় পড়ে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও ও ছবিতে তাকে মোটরসাইকেল চালানো, সৈকতে সময় কাটানো, স্কুবা ডাইভিং এবং মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেখা গেছে। সর্বশেষ ৬ মার্চের একটি পোস্টে তাকে অবকাশযাপনে দেখা যায়।

হোটেল সূত্রে জানা গেছে, তিনি একাই চেক-ইন করেছিলেন এবং ১৩ মার্চ চেক-আউট করার কথা থাকলেও তা করেননি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলে জোরপূর্বক প্রবেশ বা বিশৃঙ্খলার কোনো প্রমাণ মেলেনি। সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হোটেল ছাড়ার আগে তিনি অস্থিরভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন এবং পরে সেই দিকেই যান, যেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, মরদেহ উদ্ধারের অন্তত দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কিনা, তা জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ব্যক্তিজীবনে জর্ডান রাইট ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ভিকি প্যাটিসনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। তিনি রিয়েলিটি শো এক্স অন দ্য বিচ ও টিওডব্লিউআইইতে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে বিতর্কের জেরে টেলিভিশন ছেড়ে দিয়ে আবার দমকলকর্মী হিসেবে কাজে ফেরেন। সূত্র: ডেইলি মেইল