একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

শিল্পীর প্রয়াণের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছোট মেয়ে ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম। তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় মাহবুবা রহমান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুবা রহমান। মাত্র ১২ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার সংগীতের পথচলা শুরু। ১৯৫৬ সালে মুক্তি পাওয়া আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। এই সিনেমায় প্রখ্যাত সুরকার সমর দাসের সুরে তার গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি তাঁকে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

মাহবুবা রহমান কেবল চলচ্চিত্রের নেপথ্য কণ্ঠেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং পল্লিগীতি ও আধুনিক গানেও ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ এবং ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’। এছাড়া ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘সূর্যস্নান’ ও ‘সোনার কাজল’-এর মতো বহু কালজয়ী চলচ্চিত্রে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।