দেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পরিবারের অর্থনৈতিক চিত্রও। বহু নারী এখন নিয়মিত আয় করছেন, সংসারের গুরুভার বহন করছেন, পরিবারের বড় বড় সিদ্ধান্তের অংশ হচ্ছেন। কিন্তু উপার্জন করলেই কি আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়? নাকি উপার্জিত অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা খরচ হবে সেই সিদ্ধান্তে রয়ে যায় পরিবারের অন্য কারো অদৃশ্য প্রভাব?
কর্মজীবী নারীদের বেতনের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসাভাড়া, বাজার, সন্তানের পড়াশোনা, বিদ্যুৎ বিল ও স্বজনদের চিকিৎসায়।
ঢাকায় কর্মরত ৩২ বছর বয়সী রাশিদার মতে, ‘আমি আয় করি বলে পরিবারে আমার গুরুত্ব আছে। তবে নিজের জন্য খরচ করতে গেলে বা সঞ্চয় করতে গেলে একধরনের অপরাধবোধ কাজ করে। সবসময় মনে হয়, টাকাটা অন্য কোথাও বেশি দরকার ছিল কি না।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের পর নারীদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আরও জটিল রূপ নেয়। নারীর আয়ে পুরো সংসার সচল থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার নিজের নামে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ সঞ্চয় থাকে না। ফলে জীবনে চাকরি হারানো, অসুস্থতা কিংবা অন্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তারা মারাত্মক আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।
পুরুষ সদস্যরা নিজেদের প্রয়োজন বা শখের কথা ভেবে সহজে খরচ করতে পারলেও, অধিকাংশ নারী নিজের জন্য একটি পোশাক, বই কিংবা ভ্রমণের পেছনে খরচ করতে গেলেও দ্বিধায় ভোগেন। সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, নারীর নিজের ওপর খরচ করার বিষয়টিকে প্রায়শই প্রয়োজন না ভেবে বিলাসিতা হিসেবে দেখা হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নাজমা আক্তার (৩৬) এবং ব্যাংক কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম (২৯) এর মতো সচেতন নারীরা এখন নিজেদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনছেন। তাদের মতে, পরিবারকে সহযোগিতা করা যেমন দায়িত্ব, তেমনি নিজের ভবিষ্যতের জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয় রাখা নিজেরই নিরাপত্তার অংশ।
পরিবর্তন আসবে যেভাবে
আর্থিক স্বাধীনতা কেবল উপার্জনের বিষয় নয়; এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া, সময় এবং মর্যাদারও প্রশ্ন।
- পরিবারের ভেতরে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো যৌথ ও স্বচ্ছ হতে হবে।
- নারীর পুরো বেতন সংসারের জন্য উন্মুক্ত এই মানসিকতা বদলাতে হবে।
- নিজের অর্জিত অর্থ থেকে প্রতিটি নারীর উচিত নিজস্ব নামে একটি জরুরি তহবিল গড়ে তোলা।
একজন নারী উপার্জন করছেন এটি তার সক্ষমতার প্রমাণ। আর সেই উপার্জিত অর্থের ওপর নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হওয়াই তার প্রকৃত আর্থিক স্বাধীনতা।