গভীর সমুদ্রে পরিচালিত এক অভিযানে বিজ্ঞানীরা ১০০টি সম্ভাব্য নতুন প্রজাতির প্রাণী আবিষ্কার করেছেন। নিউজিল্যান্ড উপকূলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সাউথ আইল্যান্ডের পূর্বে ৫০০ মাইল দীর্ঘ (৮০০ কিলোমিটার) বাউন্টি ট্রফ এলাকার অবস্থান। এর আগে সাগরের এই এলাকায় কম অনুসন্ধান চালানো হলেও এবার এখানেই অভিযান পরিচালনা করেন সমুদ্র গবেষকেরা।
নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড এটমোসফিয়ার রিসার্চের গবেষণাকাজে ব্যবহৃত জাহাজ টাংগাওরাতে করেই তিন সপ্তাহের অভিযান পরিচালনা করেন বিজ্ঞানীরা।
দলটি সাগরের তিন মাইল (৪ হাজার ৮০০ মিটার) পর্যন্ত গভীরতা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি নমুনা সংগ্রহ করে। মাছ, স্কুইড, মলাস্কা এবং প্রবালের এমন সব প্রজাতি খুঁজে পেয়েছেন, যা বিজ্ঞানের জন্য নতুন বলে মনে করা হচ্ছে।
ওশান সেনসাসের অভিযান বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক ডা. ড্যানিয়েল মুর বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের এই বিশাল এলাকা সম্পর্কে তথ্যের অভাব প্রকট। আমরা এটি সম্পর্কে সে অর্থে কিছুই জানি না।’ ২০২৩ সালের এপ্রিলে চালু করা এই নতুন জোটের লক্ষ্য আগামী ১০ বছরে ১ লাখ অজানা প্রজাতি শনাক্ত করা। ‘এটি সত্যিকার অর্থেই চমৎকার ও উত্তেজনাপূর্ণ একটি অনুসন্ধান।’
মুর বলেন, আমরা একটি আবিষ্কারে রীতিমতো হতবাক হয়ে পড়েছি, যা প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলাম সামুদ্রিক তাঁরা মাছের মতো কিছু একটি। তবে প্রাণীটি সম্পর্কে এখনো সেই অর্থে কিছুই জানা নেই আমাদের। এটি এখনো একটি রহস্য। এমনকি এটি কোন পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, তা-ও বলতে পারছি না আমরা। এখনো জানি না ট্রি অব লাইফের কোথায় এর অবস্থান। এটি তাই আকর্ষণীয় একটি বিষয় হতে যাচ্ছে।’
কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম নেটওয়ার্কের ট্যাক্সোনমিস্ট ড. মিশেলা মিচেল ওশান সেন্সাস প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, এটি অক্টোকোরাল নামের একধরনের গভীর সমুদ্রের প্রবাল হতে পারে।
মুর বলেন, ‘নতুন মেরুদণ্ডী প্রাণীর সন্ধান পাওয়া বিরল। সমুদ্রে এমন বহু অমেরুদণ্ডী প্রাণী রয়েছে, যা আমরা এখনো জানি না। আর মনে করি, সাগরে যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী আছে সে সম্পর্কে আমরা জানি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা তা জানি না।’
নমুনা সংগ্রহ করার জন্য জাহাজটি সাগরতলের অবস্থার ওপর নির্ভর করে তিনটি ভিন্ন ধরনের স্লেজ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে এ কাজে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার করা বিম ট্রল। এর মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি জাল পাতা হয়। পাথুরে পৃষ্ঠের জন্য একটি স্লেজ এবং সমুদ্রতলের ঠিক ওপরে জলের নমুনা সংগ্রহের জন্য আরেকটি যন্ত্র নেওয়া হয়। আর ছিল পানির তলে ব্যবহার করা যায় এমন শক্তিশালী ক্যামেরা।
সমুদ্রের গভীরের প্রাণীজগৎ ও এদের অবস্থা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে বিশাল ফাঁক রয়ে গেছে। পৃথিবীর মহাসাগরে বিদ্যমান ২২ লাখ প্রজাতির মধ্যে কেবল দুই লাখ ৪০ হাজারের বর্ণনা বিজ্ঞান দিতে পেরেছে বলে জানায় ওশান সেনসাস।