তারুয়া সৈকতে কমে যাচ্ছে লাল কাকঁড়া ও পাখিদের বিচরণ

মানুষের পদচারণায় মুহূর্তেই কাঁকড়াদের গর্তে লুকানোর দৃশ্যে আকৃষ্ট হয়ে দেশ-দেশান্তর থেকে এই তারুয়া সৈকতে  ঘুরতে আসে প্রকৃতিপ্রেমীরা।

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:০৩ পিএম

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চারদিকে নদী বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি লাখ লাখ লাল কাঁকড়ার বিচরণে মনকাড়া দৃশ্য আর পাখিদের অভয়ারণ্য খ্যাত চরফ্যাশন উপজেলা বিচ্ছিন্নদ্বীপ ঢালচরের তারুয়া সমুদ্র সৈকত। 

তারুয়ায় এখন পর্যটকদের ভিড়। মনকাড়া স্থানে যে যার মত অবস্থান করায় কমে গেছে লাল কাকঁড়া। চরটিতে পাখিরাও স্বস্তিতে বিচরণ করতে পারছে না।

প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্যকে পাশাপাশি পাখিদের অভয়ারণ্য রক্ষায় এ চরটিতে পর্যটকের ভ্রমণে সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই। নেই কোনো বিধি-নিষেধ। ফলে অস্কুরেই প্রকৃতির আরেক সৌন্দর্য তারুয়া সমুদ্র সৈকত নৈসর্গিক দৃশ্য হারাতে বসেছে দেশের মানুষ। 

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারুয়া সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য উপভোগে আসে হাজারো মানুষ। যে যার মত সৌন্দর্য উপভোগ করায় হুমকির মুখে সৈকতের পরিবেশ। পর্যটকেরা সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া ধরার জন্য ধাওয়া করছে। ফলে অনেকে লাল কাঁকড়া ধরে নিয়ে আসছে, আবার ধাওয়া মারা পড়ছে কাঁকড়া। পাখিরা নির্বিঘ্নে বিচরণ কিংবা অবস্থান করতে না পারায় তারুয়া সৈকতে অপূর্ব দৃশ্য হুমকির মুখে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতামত পাখি কিংবা কাঁকড়া তাদের মতো করে থাকতে দিতে হয়। পর্যটকরা সৌন্দর্য অবলোকন করতে ওই দ্বীপে রাত্রিযাপন ও করছেন। ফ্রি-স্টাইলে পর্যটক-দর্শনার্থীরা সমুদ্র সৈকত থাকা খুবই বিপজ্জনক। 

ঢালচরের স্থানীয়রা জানান, পর্যটকেরা একবার আসলে বার বার আসতে মন চাইবে এই দ্বীপে। চারদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু সাগরের অথৈ জলরাশি। তারই মাঝখানে নয়ন ভোলানো এই বিশাল চর। যেন কুয়াকাটা ও কক্সবাজারকে হার মানায়! লাল কাঁকড়া দৌড়াদৌড়ি, পাখির জাঁক আর সাগরে পানির ঢেউ এক স্মৃতিময় মনকাড়া দৃশ্য। আবার মানুষের পদচারণায় মুহূর্তেই কাঁকড়াদের গর্তে লুকানোর দৃশ্যে আকৃষ্ট হয়ে দেশ-দেশান্তর থেকে এই তারুয়া সৈকতে  ঘুরতে আসে প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সারা বছরেরই পর্যটকরা তারুয়া সমুদ্র সৈকত আসে। এখন শীত তাই পর্যটকদের ভিড়ে মুখোরিত দ্বীপ চরটি। পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা দিয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা করা একান্ত দরকার বলে দাবি স্থানীয়দের। 

১৯৬৫ সাল থেকে জেগে উঠা চরফ্যাশন শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন এ চরটি ঢালচর ভেঙ্গে পূর্ব ঢালচর হিসাবে পরিচিত হলেও এটিকে পরে তারুয়া সমুদ্র সৈকত নাম করণ করেন স্থানীয়রা। দ্বীপ চরটি সৌন্দর্য ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পরলে স্থানীয়রা পর্যটক দর্শনার্থীদের ভ্রমণে নিয়ে যেতে শুরু করেন। পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছ থেকে ছবি তোলা বিধি নিষেধ না থাকায় সৌন্দর্য বন্ধন হারিয়ে যেতে বসেছে। 

AHA/KK
আরও পড়ুন