ইডিসিএল-এর অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন

সরেজমিন তদন্তে উঠে এসেছে, ইডিসিএল-এর দরপত্র কার্যক্রম নিয়ে ফ্রাঙ্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ফয়সাল নামের এক ব্যক্তির উত্থাপিত অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানটি কখনোই ইডিসিএলের কোনো দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি এবং ইডিসিএলের তালিকাভুক্ত কোনো লোকাল এজেন্ট হিসেবেও প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত নয়।

ইডিসিএল সূত্র জানায়, আলোচ্য দরপত্রে মোট ৮ জন দরদাতা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ‘ফ্রাঙ্ক ট্রেড’ নামে কোনো সাপ্লাইয়ার ইডিসিএল-এর রেকর্ডে নেই। এমনকি অভিযোগপত্রে অভিযোগকারীর স্বাক্ষর, ফোন নম্বর কিংবা ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী ৭০ কেজি ডেজোগেস্টরল ইউএসপি কাঁচামাল ক্রয়ের লক্ষে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন হলেও কারিগরি মূল্যায়ন ও আর্থিক প্রস্তাব (ফাইন্যান্সিয়াল অফার) খোলা হয়নি।

ইডিসিএল সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে কোনো কার্যাদেশ না পাওয়ায় এবং দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে, কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট দরপত্র বাতিল করা হয়।

পরবর্তী সময়ে আরেকটি দরপত্রের ক্ষেত্রে বোর্ড অনুমোদিত ক্রয় ম্যানুয়াল অনুসরণ করে প্রাথমিক ও কারিগরি মূল্যায়নের পর আর্থিক প্রস্তাব খোলা হয়। তবে প্রস্তাবিত মূল্য বাজারদরের সঙ্গে অসামঞ্জস্য হওয়ায় এবং ক্রয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থগিত রাখা হয়।

ইডিসিএল জানায়, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে উপস্থাপন করা হলেও কোনো ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইডিসিএল-এর বোর্ড অনুমোদিত ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হয়। দরদাতাদের আর্থিক প্রস্তাব খোলার আগে কোনো পক্ষের দর জানার সুযোগ নেই। ফলে মিথ্যা প্রতিযোগিতার নাটক করার প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য, আলোচিত দুটি দরপত্র থেকেই কোনো কাঁচামাল ক্রয় করা হয়নি।

ইডিসিএল জানায়, তাদের ক্রয় প্রক্রিয়ায় কমিশনের কোনো সুযোগ নেই। সকল আমদানি এলসি (ঋণপত্র) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কমিশন সংক্রান্ত বিষয় ম্যানুফ্যাকচারার ও বিদেশি প্রিন্সিপাল এবং লোকাল এজেন্টদের মধ্যকার বিষয়, ইডিসিএল কাউকে কোনো কমিশন প্রদান করে না।

এছাড়া অভিযোগে ২৮০ কেজি কাঁচামাল আমদানির কথা বলা হলেও বাস্তবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল মাত্র ৭০ কেজির জন্য।

মার্ক এলারাইজ ও সোলজেন বাংলাদেশ নামের দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ট্রেড লাইসেন্স পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা কেউই ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা নন। একইসঙ্গে ইডিসিএল-এর কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও তাদের কোনো তথ্য নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সামাদ মৃধা বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এতে অসন্তুষ্ট কোনো পক্ষ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, আলোচিত দুটি দরপত্র থেকেই কোনো কাঁচামাল ক্রয় করা হয়নি। ফলে উত্থাপিত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

বিশেষ সূত্র জানায়, স্বার্থান্বেষীরা ইডিসিএল-এর এমডিকে স্টান্ড রিলিজ করানোর জন‍্য তিন দিক দিয়ে আক্রমণ করে, তাদের প্লান এমডি যেহেতু বিএনপি করে তাকে ইলেকশনের আগেই সরাতে হবে। তাদের প্রথম প্লান ছিল প্রধান উপদেষ্টার অফিসের মাধ‍্যমে সরানো যেখানে তারা ৩০ কোটি খরচ করেছে, দ্বিতীয় প্লান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ‍্যমে যেখানে তারা ১০ কোটি টাকা খরচ করেছ, মন্ত্রণালয়ে একই তারিখে অভিযোগ ও একই তারিখে মন্ত্রণালয়ের টিম ইডিসিএল এ তল্লাশি; তাদের তৃতীয় প্লান দুদক যেখানে তারা ১০ কোটি টাকা খরচ করেছে, দুদকে একই তারিখে অভিযোগ এবং একই তারিখে দুদকের টিম ইডিসিএল এ তল্লাশি।