হজমের সমস্যা সমাধানে করণীয়

শীত কমতে শুরু করেছে। প্রকৃতিতে আসছে পরিবর্তন। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে অনেকেরই পেটে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পেট ফাঁপা এবং হজমের সমস্যা এসময় বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে আমাদের পাচনতন্ত্রের ধীরগতি শারীরিক কার্যকলাপ কম থাকা, পানি কম খাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধির কারণে ঘটতে পারে। তবে এসময় খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনার দরকার নেই, কিছু পরিবর্তন আনলেই সুস্থ থাকা সহজ হবে-

উষ্ণ এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার খান

ঠান্ডা আবহাওয়া স্বাভাবিকভাবেই শরীরের হজম প্রতিক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ঠান্ডা বা কাঁচা খাবারের তুলনায় উষ্ণ, রান্না করা খাবার পেট এবং অন্ত্রের জন্য প্রক্রিয়া করা সহজ। গরম খাবার ভালো হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের ওপর বোঝা কমায়। স্যুপ, স্টু, পোরিজ এবং হালকা শাক-সবজি পেটের জন্য সেরা খাবার। রান্না ফাইবার এবং উদ্ভিদের গঠন নরম করে, পুষ্টির শোষণ বাড়ায় এবং গ্যাস এবং পেটফাঁপা কমায়। অন্যদিকে ভাজা, প্রক্রিয়াজাত এবং তৈলাক্ত খাবারের অতিরিক্ত ব্যবহার পেট খালি করার হারকে ধীর করে দিতে পারে এবং পেট ভারী করতে পারে।

সঠিক উপায়ে ফাইবার বাড়ান

সুস্থ হজম এবং নিয়মিত মলত্যাগে ফাইবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এসময় কাঁচা, উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন সালাদ এবং রান্না না করা শাক-সবজি খেয়ে পেটে চাপ তৈরি করবেন না। অতিরিক্ত কাঁচা ফাইবারের পরিবর্তে রান্না করা এবং দ্রবণীয় ফাইবারের উৎস বেছে নিন। খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ করে খান। কাঁচা শাক-সবজির পরিবর্তে পেঁপে, আপেল, নাশপতির মতো ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

হাইড্রেটেড থাকুন

এসময়ে পানি পানের পরিমাণ সাধারণত কমে যায় কারণ আমরা কম তৃষ্ণার্ত বোধ করি। এই অভ্যাস ডিহাইড্রেশন কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপার অন্যতম বড় কারণ। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নরম মল বজায় রাখে এবং অন্ত্রের গতি সহজ করে তোলে। বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি ভেষজ চা, সবজির স্যুপ বা ঝোল ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস বাড়ান। ধীরে ধীরে খান, রাতে অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং খাবারের সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন। এই ছোট অভ্যাসগুলো হজমের চাপ কমায় এবং পুষ্টি প্রক্রিয়াকরণ উন্নত করে।