সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার মজুত ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগপর্যন্ত মিজেলসের কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের একটা টিকা আমাদের হাতে ছিল না।’

রোববার (১৭ মে) ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই কথা বলেন মন্ত্রী। জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে যথাযথ আইসোলেশন এবং পুষ্টি নিশ্চিতের ওপর জোর দেন। এ–সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে ড্যাবের (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনিসেফের সহযোগিতায় দেশের আক্রান্ত জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনগুলোয় ব্যাপকভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পর হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, বর্তমানে মাইকিং করে খুঁজে খুঁজে বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে হামের প্রাদুর্ভাব অতিমাত্রায় বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রী মায়েদের পুষ্টিহীনতাকে দায়ী করেন। মন্ত্রী জানান, তিনি বেশকিছু হাসপাতালে পরিদর্শন করে জেনেছেন, অনেক মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর পর্যায়ে নেই। তিনি মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিতে জোর দেন। বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে মায়েদের পুষ্টি ও সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করতে পারলে অনেক ব্যাধি থেকেই মুক্ত থাকা সম্ভব।’

সেমিনারে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের ডিন অধ্যাপক আতিয়ার রহমান, মিটফোর্ড হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকারিয়া আল আজিজ।

হাম প্রতিরোধের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্টে মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক। তিনি ভাইরাসজনিত এ রোগ প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখাসহ তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করার পরামর্শ দেন।

দীর্ঘ মেয়াদে হাম প্রতিরোধে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ নিশ্চিত করা, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেন তিনি।