ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সুযোগে দেশে বেড়েছে ডাবের চাহিদা। ডাবের বাজারে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির হিড়িক চলছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাবের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে প্রতি পিস ডাব ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে রোগীর স্বজনসহ সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডাবের পানির পাশাপাশি অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ডাবের দাম বৃদ্ধি করেছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের।
চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু রোগীদের শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত তরল ও ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় বাজারে ডাবের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সিন্ডিকেট ডাবের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে নিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এই সংকটের মূল চিত্রগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ডাব এখন ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ও হাসপাতালের সামনে আকারভেদে ১৪০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের একটি ডাব কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা আর একটু বড় সাইজের ডাব কিনতে ক্রেতারা ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট: ডেঙ্গু রোগীর স্বজনদের নিরুপায় অবস্থার সুযোগ সবচেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালগুলোর সামনের দোকানগুলোতে। রোগীর জন্য স্বজনরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দামে ডাব কিনছেন।
সরবরাহ সংকট বনাম কৃত্রিম সংকট
পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, গ্রামে বা আড়ত পর্যায়ে ডাবের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা বিক্রেতাদের হাতবদলের কারণে ঢাকায় আসার পর ডাবের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট ডেঙ্গু রোগীর পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করে ঠিকই, তবে ডাব না পাওয়া গেলে বা দাম অতিরিক্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকদের মতে, ডাবের বিকল্প হিসেবে খাবার স্যালাইন (ORS), লেবুর শরবত, ফলের রস, ভাতের মাড় বা সাধারণ বিশুদ্ধ পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়ালেও রোগীর শরীরের তরলের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।