দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরে একদিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মঙ্গলবারের ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৯৯৬ জনের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২৩৫ জন এবং নারী ৭৬১ জন। অর্থাৎ নতুন ভর্তি রোগীদের ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে পুরুষ চারজন এবং নারী ছয়জন।
বিভাগ ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৪২ জন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩০২ জন ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৪ জন, বরিশালে ২০৩ জন, খুলনায় ১৮৭ জন, ময়মনসিংহে ৯৬ জন, রাজশাহীতে ১৯৯ জন, রংপুরে ৭৫ জন এবং সিলেটে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় দুজন মারা গেছেন। খুলনা বিভাগে একজন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়।
এ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫ হাজার ৯৮৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩ হাজার ৬৫৬ জন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৯ হাজার ৮০৩ জন ভর্তি হয়েছেন।