শীতে রান্নাঘরের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি

শীতকাল এলেই দেশে অগ্নিকাণ্ডের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায়। শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বসতবাড়ি সবখানেই আগুনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসাবধানতাই এই বড় বিপদের কারণ। তবে একটু সচেতন হলে রান্নাঘর থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।

গ্যাস লিক শনাক্তে সঠিক পদ্ধতি

রান্নাঘরে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ গ্যাস লিক। এটি পরীক্ষা করতে কখনোই দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপদ পদ্ধতি হলো সাবান-পানির ফেনা ব্যবহার করা। পাইপ বা রেগুলেটরের সংযোগস্থলে ফেনা লাগালে যদি বুদবুদ ওঠে, তবে বুঝতে হবে গ্যাস লিক হচ্ছে। এমন অবস্থায় দ্রুত রেগুলেটর বন্ধ করে মেকানিকের সহায়তা নিতে হবে।

দাহ্য বস্তু থেকে নিরাপদ দূরত্ব

রান্নার সময় চুলার আশেপাশে টিস্যু পেপার, পলিথিন, রান্নার তেল বা কাপড় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অসাবধানতাবশত এসব বস্তুতে আগুন লেগে তা দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া রান্নার চিমনি বা এক্সস্ট ফ্যানে জমে থাকা তেলের আস্তরণ থেকেও আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে, তাই এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার

রান্নাঘরে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ওভেন, রাইস কুকার বা ব্লেন্ডার ব্যবহারের পর প্লাগ খুলে রাখা উচিত। ভেজা হাতে এসব যন্ত্র ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ সকেট দ্রুত মেরামত করতে হবে।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ:

  • রান্না শেষে চুলার চাবি ও রেগুলেটর অবশ্যই বন্ধ রাখা।
  • গ্যাস সিলিন্ডার সবসময় শুকনো ও খোলা জায়গায় রাখা।
  • সিলিন্ডার পরিবর্তনের সময় ঘরের সব আগুন নিভিয়ে রাখা।
  • রান্নাঘরে শিশুদের প্রবেশ সীমিত রাখা বা নিরাপদ দূরত্বে রাখা।

দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি

জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রতিটি রান্নাঘরে একটি ছোট ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বালুর বালতি বা অন্তত একটি মোটা ভেজা তোয়ালে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। আগুন লেগে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে মূল সংযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হবে।

সামান্য সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই পারে জানমালের বড় ক্ষয়ক্ষতি রুখে দিতে।