বাঙালির রূপচর্চায় চুলের জন্য নারকেল তেল আর শরীরের জন্য সরিষার তেল যুগ যুগ ধরে সমাদৃত। তবে যারা সরিষার তেলের চিটচিটে ভাব বা কড়া গন্ধ এড়াতে চান, তাদের জন্য অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল হতে পারে সেরা সমাধান। পুষ্টিবিদ ও রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই তেলটি কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতেও অনন্য।
ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় অলিভ অয়েলের কার্যকরী কিছু ব্যবহার নিচে তুলে ধরা হলো:
মেকআপ তুলতে প্রাকৃতিক ক্লিনজার
রাসায়নিকযুক্ত রিমুভারের পরিবর্তে অলিভ অয়েল চমৎকার ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। সামান্য তেল নিয়ে মুখে আলতো মালিশ করে তুলা দিয়ে মুছে নিলেই মেকআপ ও গভীরের ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। এছাড়া সারা শরীরে মালিশ করে গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে মুছে নিলে ত্বক সতেজ হয়।
বলিরেখা দূর করে ত্বক টানটান রাখতে
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকের কোলাজেন প্রোটিন কমতে থাকে, ফলে চামড়া ঝুলে পড়ে। এই সমস্যা সমাধানে হালকা গরম অলিভ অয়েল মুখে ম্যাসাজ করা অত্যন্ত কার্যকর। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিয়মিত ঘুমানোর আগে ফেসিয়াল ম্যাসাজের ধাপগুলো অনুসরণ করে তেল মাখলে বলিরেখা দূর হয় এবং ত্বক টানটান থাকে।
রোদে পোড়া কালচে ছোপ দূর করতে
রোদে পোড়া ভাব বা ত্বকের কালচে ছোপ দূর করতে অলিভ অয়েলের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে ৫ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে সারা শরীরে মালিশ করলে হলুদের ‘কারকিউমিন’ উপাদানটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে বিশেষ প্যাক
বেসন এবং গোলাপজলের সাথে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করা যায়। এটি মুখে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বকে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা ও সজীবতা ফিরে আসে।
শুষ্ক ত্বকের পরম বন্ধু
যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তাদের জন্য অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণ আশীর্বাদস্বরূপ। ১ টেবিল চামচ তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে মুখে মালিশ করে ৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে শুষ্ক ভাব দূর হয়। সপ্তাহে ২-৩ দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলে ত্বক হবে মসৃণ ও কোমল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত বা গ্রীষ্ম যেকোনো ঋতুতেই অলিভ অয়েল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক। তবে ব্যবহারের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ব্যবহৃত তেলটি যেন উন্নত মানের বা ‘এক্সট্রা ভার্জিন’ অলিভ অয়েল হয়।