সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্তহীন ‘স্ক্রলিং’ থামানোর নতুন দাওয়াই

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ফিডে বুঁদ হয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ খেয়াল করলেন অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে—এমন অভিজ্ঞতা আমাদের সবার। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘ডুমস্ক্রলিং’ (Doomscrolling)। তবে এই আসক্তি কাটাতে এবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই শুরু হয়েছে এক অভিনব আন্দোলন, যা ‘অ্যান্টি-স্ক্রল’ দাওয়াই নামে পরিচিতি পাচ্ছে।

অনলাইনে ‘অলিভিয়া আনপ্লাগড’ নামে পরিচিত অলিভিয়া ইয়োকুবোনিস এমন এক ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন যা ব্যবহারকারীকে স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে বাধ্য করে। তার ভিডিওগুলো অনেকটা ডিজিটাল ‘স্পিড ব্রেকার’-এর মতো কাজ করে। ফিডের মাঝখানে হঠাৎ তার শান্ত ও বৈজ্ঞানিক তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও দেখলে ইউজাররা বুঝতে পারেন তারা কতটা সময় অযথা ব্যয় করছেন। 

অলিভিয়ার মতে, “মানুষকে সচেতন করতে হলে আমাদের সেই প্ল্যাটফর্মেই থাকতে হবে যেখানে তারা সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছে।”

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওফির টুরেলের গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষকে তাদের প্রতিদিনের প্রকৃত স্ক্রিন টাইম ডেটা দেখানো হয়, তখন অনেকেই ভয় পেয়ে যান। এই সচেতনতাই অনেককে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত করে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক ইয়ান এ. অ্যান্ডারসন সতর্ক করেছেন যে, নিজেকে খুব বেশি 'আসক্ত' ভেবে অপরাধবোধে ভুগলে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আরও কমে যায়। তাই আত্ম-দোষারোপ না করে অভ্যাস পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

আরেক জনপ্রিয় ক্রিয়েটর ক্যাট গোয়েৎজে (ক্যাটজিপিটি) মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার পরিকাঠামোই এমনভাবে তৈরি যেন আপনি স্ক্রল বন্ধ করতে না পারেন। এটি কেবল ব্যবহারকারীর দোষ নয়, বরং পুরো সিস্টেমটি আপনাকে আটকে রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

আসক্তি থেকে বাঁচার ৩টি সহজ উপায়
১. অ্যাপের অবস্থান পরিবর্তন: হোম স্ক্রিন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ সরিয়ে ফেলা।
২. নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ: অপ্রয়োজনীয় পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।
৩. ডিজিটাল ফ্রি জোন: ঘুমানোর সময় ফোন বেডরুমের বাইরে রাখা।

সোশ্যাল মিডিয়া আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর ব্যবহারকে সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব। স্ক্রিন টাইম সামান্য কমালেও তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।