দুই বছর বয়স পার হওয়ার পর অনেক শিশুর মধ্যেই হঠাৎ জেদ বা একগুঁয়েমি দেখা দেয়। বিশেষ করে ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সামলানো বাবা-মায়ের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে শিশু বড় ধরনের আচরণগত সমস্যায় পড়তে পারে। শিশুর এই আচরণের পেছনে অনেক সময় অভিভাবকদের অসচেতনতাও দায়ী থাকে।
সন্তান যখন কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ করে, তখন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো আকর্ষণীয় বা উত্তেজনাপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রাখা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। এতে তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয় এবং জেদের তীব্রতা কমে আসে। তবে শুধু মনোযোগ সরানোই যথেষ্ট নয়; শিশু কী বলতে চায় তা অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। শিশুর মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে একগুঁয়েমি কোনো ভালো গুণ নয়।
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় না দিলে তাদের মধ্যে একাকীত্ব এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব শিশু দীর্ঘক্ষণ গৃহকর্মী বা একা থাকে, তাদের মধ্যে জেদি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
সমাজবিজ্ঞানীদের পরামর্শ
- কর্মব্যস্ততার মাঝেও বাড়িতে ফেরার পর শিশুকে গুণগত সময় (Quality Time) দিন।
- শিশুদের সামনে ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখুন।
- যেহেতু শিশুরা অনুকরণের মাধ্যমে শেখে, তাই তাদের সামনে চিৎকার বা উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারে একটি মাত্র সন্তান হওয়ায় বাবা-মায়েরা তাদের সব আবদার পূরণ করেন। এই প্রবণতা শিশুকে আরও বেশি জেদি করে তোলে। সব চাওয়া পূরণ না হলে তারা খিটখিটে ও রাগী হয়ে ওঠে। তাই শিশুর প্রতিটি অনুরোধ পূরণ না করে বরং তাকে অর্থের গুরুত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া জরুরি।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর সব কাজে সরাসরি ‘না’ না বলে ইতিবাচক উপায়ে তাকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝাতে হবে। জেদ একদিনে দূর হয় না; এর জন্য প্রয়োজন বাবা-মায়ের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও সহনশীলতা। ইতিবাচক শাসন ও ভালোবাসার সংমিশ্রণই পারে একটি শিশুর আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে।