শিশুদের খাবার নিয়ে মায়েদের উদ্বিগ্নতার যেন শেষ নেই। সন্তানের ঠিকঠাক বৃদ্ধির জন্য কী খাওয়াবেন সে চিন্তা তো আছেই তার সঙ্গে যোগ হয় শিশুদের না খাওয়ার বাতিক। এটা খাব না, সেটা খাব না চলতেই থাকে। অথচ বাইরের ফাস্টফুডের কথা বলুন, এক লাফে খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যাবে। আসলে আমরা মায়েরাই ছোটবেলা থেকে শিশুর জন্য সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই। ফলে যখন শিশুর পুষ্টির প্রয়োজনে উপযুক্ত খাবার দেওয়ার কথা ভাবি তখন শিশুরা বেঁকে বসে। তাই খুব ছোট থেকেই নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন যা শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে। দেখে নিন বাচ্চাকে কী কী খাওয়ানো উপকারী।
* শিশুকে ছোট থেকেই দই খেতে অভ্যস্ত করুন। এত প্রচুর ক্যালসিয়ামে রয়েছে। একই সঙ্গে দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। এই গরমের সময় দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রোবায়েটিক হিসাবে কাজ করা এই দইয়ের সঙ্গে বাদাম, শুকনো ফল শিশুদের খেতে দিতে পারেন। এটা পেটের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
* ডাল অবশ্যই রাখুন বাচ্চার খাদ্য তালিকায়। রাজমা, কাবুলি ছোলা খাওয়াতে পারেন। এই সব খাবার ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। ডালের সুপ ছাড়াও সেদ্ধ ছোলা, কাবুলি ছোলার সঙ্গে টমেটো, শশা দিয়ে সালাদ করতে পারেন।
* ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে খাওয়াতে পারেন সবুজ সবজি। মেথি শাক, ব্রকলি, মূলো, পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন সি। এই ধরনের শাকসবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে, শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটায়, হাড় ও পেশি মজবুত রাখে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখার চেষ্টা করুন রাখুন শিশুর খাদ্য তালিকায়।
* শিশুকে নিয়ম করে যে কোন ধরনের বাদাম খেতে দিন। চিনা বাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট, ডুমুর, খেঁজুর হাতের কাছে সহজলভ্য যে কোনো বাদামই খাওয়াতে পারেন। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি থেকে শুরু করে নানান ভিটামিন আছে এতে।
* খাদ্যতালিকায় ডিম রাখতেই হবে। এতে আছে প্রোটিন। শিশুর সাবিক বিকাশে সাহায্য করে ডিম। এটি শিশুকে ক্লান্তি বোধ করা ও হাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে করে। শরীরটাকে সুস্থ রাখতে ডিমের পাশাপাশি নিয়মিত দুধ খাওয়ান। এটি ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়ামে ভরপুর। যা শিশুর হাড় ও দাঁত সুস্থ্য রাখে।