আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা ভিড় এড়িয়ে চলেন। কেউ ফোনে কথা বলতে চান না, কেউবা দাওয়াত বা আড্ডা এড়িয়ে নিজের ঘরে থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। প্রিয়জনের এমন একা থাকার প্রবণতা দেখে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন এটি কি কোনো মানসিক রোগ নাকি স্বাভাবিক আচরণ?
মনোবিদদের মতে, একা থাকতে ভালো লাগা মানেই তা মানসিক সমস্যা নয়। সাইকোলজিস্ট ড. শ্রীনিবাস দত্তের ভাষ্যমতে, যারা 'ইন্ট্রোভার্ট' বা অন্তর্মুখী, তাদের কাছে একা থাকা হলো শক্তি সঞ্চয়ের একটি উপায়। তারা নির্জনে থেকে মানসিকভাবে নিজেকে পরবর্তী কাজের জন্য তৈরি করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি একা থাকার পাশাপাশি ব্যক্তির মনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, উদ্বেগ বা দৈনন্দিন কাজে অনীহা না থাকে, তবে এই নিভৃতবাস সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর।
একাকিত্বের ইতিবাচক দিক
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্জনে সময় কাটানোর কিছু ভালো দিকও রয়েছে:
- সৃজনশীলতা বৃদ্ধি: একা থাকলে মানুষ নতুন চিন্তা ও সৃজনশীল কাজে বেশি মনোযোগী হতে পারে।
- মানসিক প্রশান্তি: এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং নিজের চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে।
- আত্মোপলব্ধি: নিজের চাহিদা ও অনুভূতিগুলো বোঝার জন্য নির্জনতা বেশ কার্যকর।
কখন এটি উদ্বেগের কারণ?
একা থাকার প্রবণতা যদি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে কিংবা মনের মধ্যে বিষণ্নতা বা নেতিবাচক চিন্তার জন্ম দেয়, তবেই সেটি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। মনোবিদদের মতে, নিজের মানসিক অবস্থা নিজে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। যদি একাকিত্ব আপনাকে সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং দৈনন্দিন সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আপনার একা থাকতে ভালো লাগা স্বাভাবিক কি না, তা বুঝতে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা: ১. একা থাকা কি আপনার জন্য শুধুই স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়, নাকি এটি বাধ্যবাধকতা? ২. আপনার সামাজিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন কাজ কি স্বাভাবিকভাবে চলছে? ৩. আপনি কি দীর্ঘদিন ধরে মনমরা বা বিষণ্ন বোধ করছেন?
যদি এসব প্রশ্নের উত্তরে নিজের মধ্যে অস্বাভাবিকতা খুঁজে পান, তবে কোনো সংকোচ না করে একজন মনোবিদের সাহায্য নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, মানসিক চাহিদা বুঝে চলা এবং প্রয়োজনে প্রিয়জন বা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য।