সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ করছেন, অথচ খাওয়াদাওয়া তেমন না বদলালেও কি হঠাৎ ওজন বাড়তে শুরু করেছে? শরীর ভারী লাগা কিংবা অনবরত ক্লান্তি কি আপনার নিত্যসঙ্গী? অনেকেই ভাবেন শুধু জিম বা ব্যায়াম করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে দিনের দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার মধ্যে।
কেন ডেস্কে বসে থাকলে ওজন বাড়ে?
ডায়েটিশিয়ান ও ডায়াবেটিস এডুকেটর কানিকা মালহোত্রা বলেন, দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে শরীর কম ক্যালরি পোড়ায় এবং ফ্যাট জমতে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে শরীরের ‘মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ কমে যায়, অর্থাৎ শরীর কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের মধ্যে শক্তির উৎস পরিবর্তন করতে পারে না। এর ফলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
৬টি লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেস্কে বসে কাজের কারণে আপনার শরীরে নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:
১. পেটের চারপাশে চর্বি জমা: নড়াচড়া কম হওয়ায় ক্যালরি পোড়ে না, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে পেটের মেদ বাড়ার ওপর।
২. রক্তচাপ বৃদ্ধি: দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়, যা উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
৩. রক্তে শর্করার আধিক্য: শরীর গ্লুকোজ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. কোলেস্টেরল বৃদ্ধি: লম্বা সময় বসে থাকা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে দেয়।
৫. সবসময় ক্লান্তি লাগা: বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হওয়ার কারণে শরীর ভারী লাগে এবং কর্মক্ষমতা কমে যায়।
৬. মাংসপেশি দুর্বল হওয়া: পা ও কোমরের পেশি নিয়মিত ব্যবহার না হলে সেগুলো শিথিল ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সুস্থ থাকার সমাধান: ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
ডেস্ক জব থাকলেও কিছু সাধারণ অভ্যাস পাল্টে সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সক্রিয় থাকুন: প্রতি ২০-৩০ মিনিট বা অন্তত এক ঘণ্টা পর পর ৫ মিনিটের জন্য দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি বা শরীর স্ট্রেচ করুন।
খাদ্যাভ্যাস: রাতের ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন এবং সকালে পুষ্টিকর খাবার খান।
সঠিক ভঙ্গি: বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন এবং ঘাড় ও কাঁধের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করুন।
ডেস্কারসাইজ: কাজের ফাঁকে চেয়ার স্কোয়াট, সিটেড লেগ লিফট কিংবা হালকা হাতের ব্যায়াম করতে পারেন।
সচেতনতা এবং ছোট ছোট শারীরিক সক্রিয়তাই পারে ডেস্কে বসে কাজের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।