সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই ভাইরাল হয় বলিউডের অভিনেত্রীদের মাতৃত্বকালীন ছবি। এর অনেকগুলোই থাকে তাদের পোশাক-আশাক এবং শরীরচর্চা নিয়ে। সম্প্রতি দিপীকা পাড়ুকনের দেয়ালে পা তুলে যোগ ব্যায়ামের ছবি দেখে বিস্মিত সবাই। আসলে সুস্থ মাতৃত্বের জন্য গর্ভবতীদের নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ব্যাক পেইন নিরাময়ে এসময় ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এ সময় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম দরকার যা মা ও নবজাতকের সুস্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। এসময় কী ধরনের ব্যায়াম করবেন চলুন জেনে নেই।
দ্রুত হাঁটুন
গর্ভবতীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং সহজ ব্যায়াম হলো হাঁটাহাঁটি করা। এ ক্ষেত্রে একটু দ্রুতই হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এতে কার্ডিওভাসকুলারের ব্যায়ামও হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে দ্রুত হাঁটতে গিয়ে যেন হাঁটু ও পেটে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। কোন রকম অস্বস্তি হলে আস্তে হাঁটতে হবে। এছাড়া হাঁটার সময় দৈহিক ভারসাম্য যেন ঠিক থাকে সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। দুই পায়ের সঙ্গে দেহের ওপরের অংশে সমন্বয় করে হাঁটতে হবে।
সাঁতার কাটতে পারেন
যদিও সাঁতার কাটার মতো সুযোগ-সুবিধা শহরে খুব একটা নেই। তবু জেনে রাখা ভালো যে গর্ভাবস্থায় সাঁতার খুব ভালো ব্যায়াম হতে পারে। তবে এ জন্য সাঁতারুদের মতো অত সিরিয়াস হওয়ার দরকার নেই। মোটামুটি পানিতে নেমে এদিকে সেদিক হাঁটাচলা, হাত-পা নড়াচড়া করতে পারলেও উপকার পাওয়া যায়। শরীরে কুলালে ধীরে ধীরে সাঁতার কাটা যেতে পারে। সুইমিং পুলের সুবিধা থাকলে এসময় কিছু সময়ের জন্য এই ব্যায়ামটি করতে পারেন। তবে পানিতে নামা ও ওঠার সময় অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।
সাইকেল চালানো
ব্যায়াম হিসেবে সাইকেল চালানো গর্ভাবস্থায় খুবই কাজে দেয়। এটা হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো। এজন্য বাইরে বেরিয়ে সাইকেল চালাতে হবে এমন নয়। বাড়িতে এক্সারসাইজ সাইকেল কিনে সেটা চালানো যেতে পারে। এতে ভারসাম্য হারানোর ভয় থাকে না। প্রতিদিনই একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে সাইক্লিং করা যায়।
অ্যারোবিকস
আজকাল অনেকেই জিমে গিয়ে অ্যারোবিকস করে ঘাম ঝরাতে পছন্দ করেন। গর্ভবতীদের জন্য হালকা মাত্রার অ্যারোবিকসের উপকারিতা অনেক। এতে হাড় ও পেশির সংযোগস্থলের ব্যথা দূর হয়। পেলভিক ফ্লোরের মাসল শক্তিশালী হয়। যারা নিয়মিত অ্যারোবিকস ক্লাসে যান বা বাড়িতে করেন, তাদের গর্ভাবস্থার অনেক সমস্যাই কমে যায়।
অনেকেই এসময় মরীর ভারি হয়ে গেছে বলে শুয়ে-বসে সময় কাটান। এতে শরীরে ওপর তো বটেই মানসিকভাবেও নানা চাপ সৃষ্টি হয়। ব্যায়াম মানসিকভাবে উৎফুল্ল রাখবে। তবে এসময় যে কোন ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নিবেন। যেন কোন ধরনের জটিলতার মধ্যে না পড়তে হয়।