বাংলাদেশে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট ২০২৬। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। দিনশেষে গণনায় যারা বিজয়ী হবেন, তাদের আনন্দ প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে হাতের তর্জনী ও মধ্যমা উঁচিয়ে ধরা ‘ভি’ (V) চিহ্ন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই চিহ্নের পেছনের ইতিহাস কি আমরা জানি?
শুরুটা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
‘ভি’ চিহ্নের আদি কথা লুকিয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে। ১৯৪১ সালে বেলজিয়ামের সাবেক মন্ত্রী ভিক্টর ডি লাভেলি প্রথম প্রস্তাব করেন যে, নাৎসি বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বেলজিয়ানরা যেন ‘V’ বর্ণটি ব্যবহার করে। এই ‘V’ মূলত ইংরেজি শব্দ Victory (বিজয়), ফরাসি শব্দ Victoire এবং ডাচ শব্দ Vrijheid (স্বাধীনতা)-কে নির্দেশ করে।
উইনস্টন চার্চিল ও বিশ্বায়ন
এই চিহ্নটিকে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। যুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি নিয়মিত জনসম্মুখে দুই আঙুল উঁচিয়ে ‘ভি’ প্রদর্শন করতেন। এরপর থেকেই এটি শুধু যুদ্ধের ময়দানে নয়, রাজনীতি এবং যেকোনো সাফল্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
শান্তি ও সংহতির প্রতীকে রূপান্তর
বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে এই চিহ্নের সংজ্ঞায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকারীরা একে ‘পিস সাইন’ বা শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। বর্তমানে এটি একই সাথে বিজয়, শান্তি এবং সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।
কীভাবে দেখাবেন এই চিহ্ন?
ভি চিহ্ন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে হাতের তালুর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত হাতের তালু বাইরের দিকে রেখে তর্জনী ও মধ্যমা উঁচিয়ে ধরা হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, অনেক সংস্কৃতিতে (যেমন যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়া) হাতের তালু নিজের দিকে রেখে এই চিহ্ন প্রদর্শন করাকে নেতিবাচক বা অপমানজনক মনে করা হয়। তাই বিজয় উল্লাসে তালু বাইরের দিকে রাখাই বিশ্বজনীন ও শিষ্টাচারসম্মত নিয়ম।