বাড়িতে গ্যাস লিকেজ হলে বোঝার উপায় ও করণীয়

প্রাকৃতিক গ্যাস আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা। এই গ্যাস ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ না করলে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই বাড়িতে গ্যাস লিকেজ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া ও আগেভাগে গ্যাস লিকেজের লক্ষণ জানা জরুরি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘গ্যাস লিকেজ প্রতিরোধে সচেতনতা খুবই প্রয়োজন। আগে থেকে সতর্ক থাকলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’

বাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডার বা পাইপলাইনে উচ্চচাপে গ্যাস জমা থাকে। কোথাও সামান্য ফাটল বা ছিদ্র তৈরি হলে সেখান দিয়ে গ্যাস বের হতে শুরু করে। বন্ধ ঘরে এই গ্যাস জমে থাকলে বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যেসব লক্ষণে গ্যাস লিকেজ বোঝা যায়

অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ: গ্যাস লিকেজের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো পচা ডিমের মতো তীব্র গন্ধ। প্রাকৃতিক গ্যাস আসলে গন্ধহীন হলেও নিরাপত্তার জন্য এতে ‘মার্কেপ্টেন’ নামের একটি রাসায়নিক মেশানো হয়। কোথাও লিকেজ হলে এ গন্ধ সহজেই টের পাওয়া যায়। এমন গন্ধ পেলেই সতর্ক হতে হবে।

হিস হিস শব্দ: সিলিন্ডার বা গ্যাস পাইপে লিকেজ হলে ফাঁটল দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার সময় হিস হিস শব্দ শোনা যেতে পারে। এ ধরনের শব্দ শুনলে দ্রুত বিষয়টি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

আশপাশের গাছপালা শুকিয়ে যাওয়া: গ্যাস লিকেজ হলে ঘরের ভেতরের বা আশপাশের ছোট গাছ অক্সিজেনের অভাবে হঠাৎ শুকিয়ে যেতে পারে। টবের গাছ বা বাগানের ছোট গাছ অকারণে নষ্ট হলে গ্যাস লাইনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

শারীরিক অসুস্থতা: গ্যাস লিকেজ হলে ঘরের বাতাসে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গ্যাস লিকেজ হলে করণীয়
গ্যাস লিকেজের সন্দেহ হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান। কোনো অবস্থাতেই লাইট, সুইচ, বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা আগুন ব্যবহার করবেন না। দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন এবং সম্ভব হলে গ্যাসের মূল লাইন বন্ধ করে দিন। পাশাপাশি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দিন।

দুর্ঘটনা এড়াতে যা করবেন
গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ব্যবহার না থাকলে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখুন। বাড়িতে কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারী যন্ত্র বসানো যেতে পারে। গ্যাসের মূল সুইচ সহজে ব্যবহারযোগ্য স্থানে রাখা এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস লিকেজ অনেক সময় নীরবে বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই লক্ষণগুলো জানা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই জীবন ও সম্পদ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।