দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমন অভিমত উঠে এসেছে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিদ্যাপীঠ এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের নতুন দিল্লি ক্যাম্পাসে “দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে শান্তি রক্ষা ও সহযোগিতায় সাংবাদিকতার ভূমিকা” শীর্ষক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (এসজিএফ) ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. এম হুদা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসজিএফ প্রেসিডেন্ট রাজু লামা।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রহমান, ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. অনিরুদ্ধ শুধাংশু, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবীসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিক, গবেষক, মানবাধিকার কর্মী এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবী। তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’ বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং জনমানুষের মধ্যে আস্থার সেতু তৈরিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শান্তি নির্মাণ ও জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। দায়িত্বশীল রিপোর্টিং যেমন ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে, তেমনি দায়িত্বহীনতা জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর (Fake News) ও অপপ্রচারের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার আঞ্চলিক শান্তির জন্য বড় হুমকি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই (Fact Check), নৈতিকতা বজায় রাখা এবং সংযত ভাষা ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনায় ‘পিস জার্নালিজম’ বা শান্তি সাংবাদিকতা চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও পেশাগত মান উন্নয়ন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।