মাথায় সোনালী চুল আর ব্যতিক্রমী রঙের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জের এক বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব মিডিয়ায়। ভাইরাল এই মহিষকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ।
মূলত এই নামই তার রাতারাতি তারকা বনে যাওয়ার অন্যতম কারণ। আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়া হবে ‘ট্রাম্পকে’। খবর এএফপির।
ঢাকার কাছের নারায়ণগঞ্জে খামারি জিয়া উদ্দিন মৃধার খামারে থাকা ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির রয়েছে মাথাভর্তি সোনালি চুল।
এ কারণেই মৃধার ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে মহিষটির নাম রাখেন। ৩৮ বছর বয়সি জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই মহিষটির বিরল চুল দেখে এই নাম দিয়েছে।’
মে মাসজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই মহিষটিকে দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার শিশুরাও কৌতূহল নিয়ে দেখতে আসছে।
তারকা এ মহিষটির যত্নেও কোনো কমতি নেই। দিনে চারবার গোসল করানো হয় তাকে। মাথায় পানি ঢেলে গোলাপি রঙের ব্রাশ দিয়ে যত্ন করে আঁচড়ে দেওয়া হয় তার সোনালি চুল।
জিয়া উদ্দিন হাসতে হাসতে বলেন, ‘তার একমাত্র বিলাসিতা হলো দিনে চারবার গোসল করা।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে এই মহিষের মিল শুধু চুলেই সীমাবদ্ধ।
জিয়া উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত ভিড় ও কোলাহলে মহিষটি কিছুটা ওজন হারিয়েছে। তাই এখন দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। তবুও শিশুরা খামারের গেটের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখার চেষ্টা করছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালবিনো মহিষ খুবই বিরল। শরীরে মেলানিনের অভাবে এদের গায়ের রং সাদা বা হালকা গোলাপি হয়।
ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদ বন্ধু-স্বজন নিয়ে মহিষটিকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে মহিষটির চেহারা আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কিছুটা মিল আছে।’
তিনি আরও জানান, আমার ভাতিজা শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে এক ঘণ্টার নৌযাত্রা করে এসেছে।
এই খামারে শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ই নয়, আরও কয়েকটি মহিষের মজার নাম রয়েছে। একটি রাগী মহিষের নাম ‘তুফান’, বড় আকারের আরেকটির নাম ‘ফ্যাট বয়’, আর শান্ত স্বভাবের একটি মহিষের নাম ‘সুইট বয়’।
এ ছাড়া সোনালি চুলওয়ালা আরেকটি ষাঁড়ের নাম রাখা হয়েছে ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমারের নামে।
গত এক বছর ধরে আদর-যত্নে মহিষটিকে লালন করা জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে খুব মিস করব। কিন্তু ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ স্বীকার করা।