সংবাদপত্র যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রে পরিণত না হয়: মাহমুদুর রহমান

আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই স্তম্ভের মর্যাদা ধরে রাখার মূল দায়িত্ব সাংবাদিকদের। তিনি সতর্ক করে দেন যে, কোনো ঘটনার ন্যারেটিভ বা বিবরণ তৈরি করতে গিয়ে সংবাদপত্র যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রে পরিণত না হয় এবং কোনোভাবেই যেন রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িয়ে না পড়ে।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)-এর যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন।

বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংবাদক্ষেত্রের যে নৈতিক পতন ঘটেছে, সেখান থেকে গণমাধ্যমকে টেনে তুলে একটি স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাংবাদিকদের সৎ, কর্মনিষ্ঠ ও দক্ষ হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। এই ধরনের প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও দক্ষতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সমসাময়িক সাংবাদিকতায় ফ্যাক্টচেকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, পিআইবির বাংলা ফ্যাক্ট চেক বিভাগ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিয়মিত সহায়তা করছে এবং গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার সাংবাদিককে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

অন্যদিকে আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও ভুয়া ফটোকার্ডের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো খবর প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা এখন সবচেয়ে জরুরি, তাই এআই ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ক প্রশিক্ষণ সময়ের বড় দাবি। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক এমডি এম আবদুল্লাহ এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সদ্য গঠিত ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে বড় অবদান রাখবে।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ২৯ জন সিনিয়র সাব-এডিটর ও স্টাফ রিপোর্টার এই কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনের কর্মশালায় ঢাকা পোস্টের আরিফুল ইসলাম আরমান প্রশিক্ষক হিসেবে এআই টুলস, গুগল ট্রেন্ডস এবং নোটবুক এলএম-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিকগুলো তুলে ধরেন। দ্বিতীয় দিনে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মূলনীতি, ছবি ও ভিডিও যাচাইকরণ, সাইবার নিরাপত্তা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ২৭ ও ২৮ জুন একই বিষয়ে সাংবাদিকদের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।