সংখ্যালঘু নারীকে হত্যাচেষ্টার ভুয়া ভিডিও ভাইরাল!

কথিত উগ্র মুসলিম কর্তৃক প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু নারী হত্যাচেষ্টার একটি ভুয়া ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয় বরং, এটি ২০২২ সালে স্থানীয় গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সংঘটিত একটি মারধরের ঘটনার সময়ের ভিডিও। গুজবসৃষ্টিকারী একটি মহল এটিকে সাম্প্রদায়িক রং চড়িয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচার করছে। খবর রিউমর স্ক্যানারের। 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটিতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর লোগো দেখা যাওয়ার সূত্রে গণমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ০৩ জুন ‘জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে নারী নির্যাতনের অভিযোগ’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে মূলধারার গণমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ০৩ জুন ‘চট্টগ্রামে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে তিন নারীকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে বছরের ০২ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের জোড়বটতল এলাকায় জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে তিন নারীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত তিনজন হলেন যোগেন্দ্র চন্দ্র দাসের স্ত্রী শ্রীমতি রানী দাস (৩০), মিলন চন্দ্র দাসের স্ত্রী অঞ্জনা রানী দাস (৩২) ও কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী রীমা রানী দাস (২৭)। হামলাকারীরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম ও আলমগীর। এ ঘটনায় সেসময় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। 

তবে ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর সে বছরের ০৫ জুন জনি চৌধুরী নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়।

পাশাপাশি খবর বাংলা নামে একটি সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে সে বছর উক্ত ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী কর্তৃক সীতাকুণ্ড মডেল থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের কপি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই বিষয়ে ভুক্তভোগী সীতাকুণ্ড মডেল থানায় অভিযোগের পাশাপাশি পূর্বে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা করেন (মামলা নং-১৩২৭/২০২১)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী হাজি আমিনুল হক সওদাগর, পিতা মৃত ফজলুর রহমান। বিবাদীরা হলেন সচী রানী দাস,স্বামী অমৃত দাশ, শ্রীমতি দাশ, স্বামী যোগন্দ দাস, অঞ্জনা দাস স্বামী চন্দ্র দাস, রিনা দাস,স্বামী কৃষ্ণ চন্দ্র দাস।

বিউমর স্ক্যানার জানায়, আসলে, জাম পাড়া এবং জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে সৃষ্ট মারধরের ঘটনা এটি; যা ২০২২ সালে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত হয়েছিল। ২০২২ সালের পুরোনো ঘটনার ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম পুরুষ কর্তৃক হিন্দু নারীর ওপর হামলার দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।