বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ওপর জোর দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এর সংস্কার উদ্যোগের প্রতি ইইউর অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদী বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্বের আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং চলমান আলোচনার সফল সমাপ্তির আশা প্রকাশ করেন।
পাম্পালোনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্বীকৃতি দেন এবং জুলাই সনদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চলমান সংস্কার উদ্যোগের প্রতি ইইউর সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শ্রম সমস্যাসহ ইইউর অনেক উদ্বেগ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। জনগণের ইচ্ছা বোঝার জন্য আসন্ন গণভোটের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মান এবং অখণ্ডতার প্রতি আস্থার প্রদর্শন হিসেবে তিনি ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনকে স্বাগত জানান।
আলোচনায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার (ইবিএ স্কিম) সম্প্রসারণের জন্য ইইউর প্রশংসা করেন। তিনি ইইউকে বর্তমান জিএসপি সুরক্ষা সীমা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে অভিবাসন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আইনি পথ তৈরির বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশ-ইইউ মাইগ্রেশন এবং মোবিলিটি সংলাপের প্রশংসা করেছে এবং ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে।
উভয় পক্ষই সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং পিসিএ আলোচনার সফল সমাপ্তির আশা প্রকাশ করেছে, যা একটি শক্তিশালী এবং বর্ধিত বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্বের পথ প্রশস্ত করবে।