ড. ইউনূসকে অ্যামনেস্টি মহাসচিবের খোলা চিঠি

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলা চিঠি দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। 

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, আগামী নির্বাচন এবং তার আগের সময়টি হবে বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও আইনের শাসনের প্রতিশ্রুতির এক বড় পরীক্ষা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে জনআস্থা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই মানবাধিকার সংস্কার শুরুর একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করে সংস্থাটি।

চিঠিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেন অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। এর মধ্যে রয়েছে- দুটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে হামলা, ‘নিউ এজ’ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হয়রানি এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা।

অ্যামনেস্টি মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, এসব সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের প্রতিটি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব। এখনকার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই আগামী বহু বছরের জন্য বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।