আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন রিকুইজিশনের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বিধি-বিধান অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে রিকুইজিশন করা যানবাহনের মালিকদের স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বাজার দরে বা ভাড়ার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) পাঠানো হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি থেকে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইসি এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ (RPO) এবং ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬’ এর বিধান অনুযায়ী মোবাইল ডিউটি, পেট্রোল ডিউটি, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, নির্বাচনি মালামাল পরিবহন এবং ফোর্স যাতায়াতের জন্য যানবাহন রিকুইজিশন করা যাবে।
আরপিও-এর অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী, সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি দ্রব্য পরিবহন বা কর্মকর্তাদের যাতায়াতের প্রয়োজনে যেকোনো যানবাহন বা জলযান রিকুইজিশন করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্টের ব্যবহৃত কোনো যানবাহন কোনোভাবেই রিকুইজিশন করা যাবে না।
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রিকুইজিশন করা যানবাহনের মালিককে স্থানীয় বাজার দর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা ভাড়া প্রদান করতে হবে। যদি কোনো মালিক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পরিমণে অসন্তুষ্ট হন, তবে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সরকার নিযুক্ত সালিশকারী বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে।
এদিকে, ডিএমপি অধ্যাদেশের ১০৩-ক ধারা অনুযায়ী, পুলিশ কমিশনার জনস্বার্থে যেকোনো যানবাহন সর্বোচ্চ ৭ দিনের জন্য রিকুইজিশন করার ক্ষমতা রাখেন। এক্ষেত্রেও মালিককে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি, পুলিশ এবং টেলিকম সংস্থাসহ মোট ৯টি সংস্থার জন্য বিপুল পরিমাণ যানবাহন প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ৪০০টি বাস, ৩০টি ট্রাক, ১ হাজার ১০০টি লেগুনা এবং ১ হাজারেরও বেশি মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করার প্রয়োজন হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো প্রথমে নিজেদের সংস্থার যানবাহন ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেবে; তবে প্রয়োজন হলে বিধি মেনে বেসরকারি যানবাহন রিকুইজিশন বা ভাড়া করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে যানবাহন ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।