প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ ও তার আশপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান ও বিশৃঙ্খলা দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও ধৈর্য প্রদর্শন করেছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ‘গতকাল পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। কাউকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বল প্রয়োগ করা হয়নি। জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ কাজ করেছে।’
বিক্ষোভ দমনে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করলেও কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা মারণাস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার করা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ সময় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি অনুযায়ী সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার তথ্যটি ভিন্নভাবে দেখছে পুলিশ।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বিচ্ছিন্ন লাঠিপেটার ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে অভিহিত করেন মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, যা অনভিপ্রেত। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই এই সময়ে জননিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন যেকোনো কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংঘর্ষের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। পুলিশ কোনো গুলি বর্ষণ করেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করেছে। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।