শাহবাগে থমথমে পরিস্থিতি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ এএম

রাজধানীর শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে এখন পিনপতন নীরবতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে সারিবদ্ধ জলকামান। যদিও এদিন রাস্তায় কোনো ব্যারিকেড দেখা যায়নি, তবে যান চলাচল এবং পথচারীদের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই সংঘাতের আশঙ্কায় এই রুটটি এড়িয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করছেন।

বাংলামোটরগামী এক পথচারী জানান, গতকালের সংঘর্ষের পর এই এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাধ্য না হলে কেউ এই পথ মাড়াচ্ছেন না।

গতকাল শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে।

এই সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। 

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা ঠেকাতে পুলিশ বাধ্য হয়ে বাধা প্রদান করেছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। 

জামায়াত নেতা জুবায়ের গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

DR/FJ
আরও পড়ুন