আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ বলে মনে করেন দেশের ৪৮ শতাংশ মানুষ। তবে ১১ দশমিক ৩ শতাংশের ধারণা, সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কতটা জেনে-বুঝে নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ?’ শীর্ষক প্রাক-নির্বাচনী জনধারণা জরিপের ফলাফল প্রকাশকালে এসব তথ্য জানানো হয়।
বেসরকারি সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং তাদের যুব প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ ফর পলিসি (ওয়াইএফপি) যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করে। দেশের ৮টি বিভাগের ৪০টি জেলায় ৯ হাজার ৮৯২ জনের ওপর গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি এই জরিপ চালানো হয়।
জরিপে দেখা গেছে, ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা কেন্দ্রে যেতে নিরাপদ বোধ করবেন বলে আশা করেন। এছাড়া ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, তাদের এলাকায় ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুরা ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন। তবে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নির্বাচনের দিনে সম্ভাব্য নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ‘জুলাই সনদে’র বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানেন। তরুণ প্রজন্মের (১৮-৩৫ বছর) মধ্যে এই হার ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও বয়স্কদের মধ্যে তা মাত্র ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষই অবগত নন।
জরিপে উঠে এসেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ জয়ী হলে কী হবে—সে বিষয়ে দেশের ২৯ শতাংশ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। প্রাক-নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ব্যালটের ভাষা পড়া ও বোঝার সক্ষমতা। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশের বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন মানুষ জানিয়েছেন, তারা ব্যালটের লেখা সহজে পড়তে বা বুঝতে পারেন না।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ। এ সময় ওয়াইএফপির প্রধান সানজিদা রহমান ও আইআইডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম পরিচালক মারিয়াম তাসনিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।