সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৫০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র নয়টি দল জয়ের মুখ দেখেছে। বাকি ৪১টি দল একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি, ফলে তাদের সংসদীয় যাত্রা শূন্য হাতেই শেষ হলো। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বেশ কয়েকটি দলসহ মোট আটটি নিবন্ধিত দল নির্বাচন বর্জন করে।
তবে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র মতো কিছু দল ভোটে অংশ নিয়েছিল। সব মিলিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টিসহ মোট ৫০টি দল এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সব আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী (আদালতে মামলা থাকায় দুইটি আসনের ফল স্থগিত), দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে বিএনপি। দলটির জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুইটি আসনে জয়ী হয়েছে। দুই বড় জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন সাতটি আসনে। অর্থাৎ, এই ৯টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই ত্রয়োদশ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি আসনেও জয় পায়নি এমন দলের সংখ্যা ৪১। এদের মধ্যে অন্যতম বড় দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। এছাড়া জয়ের খাতা খুলতে না পারা অন্য দলগুলো হলো— লিবারেল ডেমক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
নিবন্ধিত দলের মধ্যে আরও যারা কোনো আসন পায়নি তারা হলো— বিএমএল, মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি (৬৮.১ শতাংশ) এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখের মতো (৩১.৯ শতাংশ)। এর ফলে রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবনাগুলোতে জনগণের রায় নিশ্চিত হলো।