ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল শেষে জানা গেছে আগামীর সংসদ সদস্যদের পরিচয়। এবারের সংসদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো অর্ধেকেরও বেশি সদস্য এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তালিকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১৫১ জন নতুন মুখ রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপিতে। দলটির প্রায় ৭১ জন প্রার্থী এবারই প্রথম সংসদে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ৬৮ জনের মধ্যে ৩ জন ছাড়া বাকি ৬৫ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আরও পাঁচটি দলের প্রতিনিধিরা এবারই প্রথম সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬ জন, খেলাফত মজলিসের ২ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, ইসলামী আন্দোলনের ১ জন এবং এনডিএমের ১ জন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন।
প্রথমবারের মতো সংসদে বিএনপির যারা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে ৭০ জনই নতুন মুখ। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন।
ঢাকার অন্যান্য আসনে প্রথমবার জয়ীরা হলেন— খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), হামিদুর রহমান হামিদ (ঢাকা-৭), হাবিবুর রশিদ হাবিব (ঢাকা-৯), রবিউল ইসলাম রবি (ঢাকা-১০), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩) ও এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮)।
ঢাকার বাইরে বিএনপির নতুন মুখদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— গাইবান্ধা-৪ আসনে মোহাম্মদ ফারুক আলম সরকার, জয়পুরহাট-২ আসনে আব্দুল বারী, নওগাঁ-১ আসনে মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, দিনাজপুর-৬ আসনে এজেডএম জাহিদ হোসেন, নওগাঁ-৩ আসনে ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনে একরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৬ আসনে শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, রাজশাহী-৫ আসনে নজরুল ইসলাম, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আইনুল হক, পাবনা-৫ আসনে মোহাম্মদ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ও খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম।
বরিশাল বিভাগে বিএনপির নতুন সংসদ সদস্যরা হলেন— ভোলা-৪ আসনে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, বরিশাল-৪ আসনে মোহাম্মদ রাজিব আহসান, পিরোজপুর-২ আসনে আহমেদ সোহেল মনজুর ও পিরোজপুর-৩ আসনে মো. রুহুল আমিন দুলাল। টাঙ্গাইল থেকে প্রথমবার বিজয়ী হয়েছেন— লুৎফর রহমান মতিন (টাঙ্গাইল-৪), সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫), রবিউল আউয়াল লাভলু (টাঙ্গাইল-৬) ও আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল-৮)।
ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলে রয়েছেন— লুতফুল্লাহেল মাজেদ (ময়মনসিংহ-৮), ইয়াসের খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯), মো. জালাল উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), শেখ মো. আবদুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১), আব্দুস সালাম আজাদ (মুন্সীগঞ্জ-২), মো. মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মঞ্জুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর-৩), মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু (নারায়ণগঞ্জ-১), নজরুল ইসলাম আজাদ (নারায়ণগঞ্জ-২) ও মো. আজহারুল ইসলাম মান্নান (নারায়ণগঞ্জ-৩)।
ফরিদপুর ও সিলেট বিভাগে ধানের শীষ নিয়ে প্রথমবার জয়ীরা হলেন— ইউসূফ আহমেদ (ফরিদপুর-৩), শহীদুল ইসলাম বাবুল (ফরিদপুর-৪), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্ল্যা (গোপালগঞ্জ-১), কেএম বাবর আলী (গোপালগঞ্জ-২), এসএম জিলানী (গোপালগঞ্জ-৩), সাইদ আহমেদ আসলাম (শরীয়তপুর-১), মিয়া নুরদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১), মোহাম্মদ কয়সর আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৩), তাহসিনা রুশদীর (সিলেট-২), মোহাম্মদ আবদুল মালিক (সিলেট-৩), এমরান আহমেদ চৌধুরী (সিলেট-৬), সওকত হোসেন সকু (মৌলভীবাজার-২), সাখাওয়াত হাসান জীবন (হবিগঞ্জ-২) ও রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১)।
অন্যান্য নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন— এস এ হান্নান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১), মো. আব্দুল মান্নান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), ফরহাদ হোসেন আজাদ (পঞ্চগড়-২), মো. জসিম উদ্দিন (কুমিল্লা-৫), রফিকুল আলম মজনু (ফেনী-১), আব্দুল আওয়াল মিন্টু (ফেনী-৩), মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (নোয়াখালী-৫), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮), সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০) ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩)।
জামায়াতে ইসলামীর নতুন মুখ
সংসদে বিরোধী দল জামায়াতের ৬৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনই প্রথমবারের মতো এমপি হলেন। দলের ৩ জন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হলেন— সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (কুমিল্লা-১১), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫) ও রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)।
আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়া প্রথমবার এমপি হওয়া বাকি ৬৪ জন হলেন— সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (ঢাকা-৪), মোহাম্মদ কামাল হোসেন (ঢাকা-৫), সাইফুল আলম মিলন (ঢাকা-১২), আহমদ বিন কাশেম আরমান (ঢাকা-১৪), মো. আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মো. আনেয়ারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১), মো. মাহবুবুল আলম (কুড়িগ্রাম-৩), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-৪), মো. আব্দুল গফুর (কুষ্টিয়া-২), মো. আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), মো. আফজাল হোসেন (কুষ্টিয়া-৪), শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (খুলনা-২), মো. আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), মো. মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), মো. আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), মো. আব্দুল ওয়ারেছ (গাইবান্ধা-৫), সালাহ উদ্দিন (গাজীপুর-৪), মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৬), মো. কেরামত আলী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), মু. মিজানুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), মো. নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), মো. মাসুদ পারভেজ (চুয়াডাঙ্গা-১), মো. রুহুল আমিন (চুয়াডাঙ্গা-২), মো. ফজলুর রহমান সাঈদ (জয়পুরহাট-১), আলী আজম মো. আবু বকর (ঝিনাইদহ-২), মো. মতিয়ার রহমান (ঝিনাইদহ-৩), মো. আবু তালিব (ঝিনাইদহ-৪), মো. এনামুল হক (নওগাঁ-২), মো. আব্দুস সাত্তার (নীলফামারী-১), আলফারুক আব্দুল লতীফ (নীলফামারী-২), ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩), আব্দুল মুনতাকিম (নীলফামারী-৪) ও মো. শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২)।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আরও বিজয়ী হয়েছেন— মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মুহাম্মাদ আলী আছগার (পাবনা-৩), মো. আবু তালেব মন্ডল (পাবনা-৪), মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), মো. মশিউর রহমান খান (বাগেরহাট-১), শেখ মনজুরুল হক রাহাদ (বাগেরহাট-২), মো. আব্দুল আলীম (বাগেরহাট-৪), মো. কামরুল হাসান (ময়মনসিংহ-৬), মো. তাজউদ্দীন খান (মেহেরপুর-১), মো. নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২), ইলিয়াস মোল্লা (ফরিদপুর-১), আতাউর রহমান (নড়াইল-২), মাছুম মোস্তফা (নেত্রকোণা-৫), মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (যশোর-১), মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (যশোর-২), মো. গোলাম রছুল (যশোর-৪), গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), মোক্তার আলী (যশোর-৬), রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মাহবুবুর রহমান বেলাল (রংপুর-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), নুরুল আমীন (রংপুর-৬), মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১), আব্দুল বারী সরদার (রাজশাহী-৪), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), ইজ্জত উল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), মুহা. রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩) এবং জিএম নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪)।
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী
এনসিপির শাপলা প্রতীকে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন— নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন (রংপুর-৪), হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬), আব্দুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪) ও আতিকুল রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।
খেলাফত মজলিস থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন— সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা (মাদারীপুর-১), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ (ময়মনসিংহ-২) এবং মুফতি আবুল হাসান (সিলেট-৫)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মো. অলি উল্লাহ (বরগুনা-১) প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত চারজন হলেন— শেখ মজিবুর রহমান (কিশোরগঞ্জ-৫), আব্দুল হান্নান (চাঁদপুর-৪), আতিকুল আলম শাওন (কুমিল্লা-৭) ও সালমান ওমর (ময়মনসিংহ-১)।
নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যারা
গণভোটের ফলের গেজেট প্রকাশ
ফাঁসির সেল থেকে সংসদে যে তিন নেতা
জামানত হারিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ৩৬ প্রার্থী 
