দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে সোয়াট (SWAT), বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংসদ ভবনের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে চারপাশ এবং ভিআইপিদের যাতায়াতের রুটে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানস্থলে আসা পর্যন্ত বিশেষ প্রোটোকল ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) শপথ গ্রহণ করবেন। জানা গেছে, এদিন তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও পৃথকভাবে শপথ নেবেন। এরপর বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মূল শপথ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া।
ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোডে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ থাকবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মণিপুরী পাড়া ও আসাদ গেট সংলগ্ন সংসদ ভবনের নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে হবে।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।