আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ যাত্রা শুরু করছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।

সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তিন ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর দুপুরে বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে।

বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজার অস্থায়ী মঞ্চে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনকে সংস্কার করে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে বিএনপির বিশেষ অনুরোধে এবার সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার গুরুত্বপূর্ণ অতিথি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত থাকবেন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে জামায়াতে ইসলামী, যার সংসদীয় নেতা হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ এলাকা ও এর আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে ডিএমপি। খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং গণভবন ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যান চলাচল সীমিত থাকবে। ট্রাফিক বিভাগ বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালীন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।