প্রাথমিকভাবে যে ১৪ ওয়ার্ডে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড

সারাদেশের নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এলাকাগুলো হলো-ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ। বাকি একটি এলাকার নাম দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে তাদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। তবে সরকারের অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীরা এককভাবে একাধিক ভাতা পাবেন না, যদিও তাদের পরিবারের অন্যান্য যোগ্য সদস্যরা এই কার্ডের সুবিধা পেতে পারবেন।

অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। এনআইডি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। এরপর মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

এই কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক হলো, নগদ অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের মতে, এটি তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, এই কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।