২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলাফল প্রকাশের ১৩ দিন পর গণভোটের ফলাফল সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি ভোট কমিয়ে নতুন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধিত তথ্য জানানো হয়।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বিষয়ে জনসম্মতি যাচাই করতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রথম ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬। দুই পক্ষের ভোট মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। বাতিল ভোট বাদ দিলে বৈধ ভোটের সংখ্যা হয় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬।
তবে সংশোধিত গেজেটে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা কমে হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০। ‘না’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। ফলে মোট প্রদত্ত ভোট কমে হয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। বাতিল ভোটের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। বাতিল ভোট বাদ দিলে বৈধ ভোট দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫। সব মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। তবে বৈধ ভোট কমলেও বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি, যা সংশোধনীকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। গেজেটে কেবল বলা হয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই গণভোটের মাধ্যমেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসমর্থন চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।