নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। নতুন সরকারের শপথের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এখন যে যাঁর পুরনো কর্মক্ষেত্রে ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ ফিরেছেন শিক্ষকতায়, কেউ গবেষণায়, আবার কেউ ফিরেছেন ওকালতি বা এনজিওর কাজে। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁদের অধিকাংশকেই এখন আর জনসম্মুখে বা গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে না।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আগেই প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছাড়েন। এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথের রাতেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের অন্যতম সহযোগী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজও গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তবে তিনি দাপ্তরিকভাবে পুনরায় 'ইউনূস সেন্টারে' সময় দিতে শুরু করেছেন। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিন তিনি যমুনা ছেড়ে তাঁর গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে সরকারি আবাসন ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ নজরুল হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের আগের বাসায় উঠেছেন। তবে তিনি বর্তমানে লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরকারি বাসভবন ব্যবহার করেননি, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি পুনরায় তাঁর কর্মস্থল 'বেলা'-তে কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ফরিদা আখতার, এম সাখাওয়াত হোসেন ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীরা নিজ নিজ বাসভবনেই অবস্থান করছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন উপদেষ্টা এখনও মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান (৪ মিন্টো রোড), পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (৩৫ মিন্টো রোড), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন (৫ মিন্টো রোড) এবং শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার (৩৪ মিন্টো রোড)। তবে প্রত্যেকেই বর্তমানে গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, তিনি পুনরায় লেখালেখি ও শিক্ষকতায় ফিরে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার ভূমিকা সমানভাবে বিতর্কিত ছিল না, তাই তাঁদের এভাবে আড়ালে চলে যাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে প্রায় সব উপদেষ্টাই বর্তমানে দেশেই আছেন এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে মনোনিবেশ করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।