সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা দেওয়া হবে। সুবিধাভোগীরা সরাসরি তাদের মোবাইল ওয়ালেট (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই টাকা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ রাখা হয়নি। স্পর্শবিহীন চিপ ও কিউআর কোড সম্বলিত আধুনিক এই কার্ডটি অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী।
ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করছে। যদি কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হন, অথবা পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, গাড়ি, এসি বা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকে, তবে সেই পরিবার এই ভাতার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া, নারী গৃহপ্রধান যদি ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে সেটি বাতিল করে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
পাইলট প্রকল্পের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।