দেশের ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে আগামী মাস থেকেই ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং এর মাধ্যমে কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির মূল শক্তিতে রূপান্তর করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা সাধারণ মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষায়িত ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে আসছি আমরা, যা আগামী মাস থেকেই বিতরণ শুরু হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় কৃষকদের বন্ধু ছিলেন। সেই পথ ধরেই আমরা কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই।’
১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি সম্পন্ন হলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ১২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং এলাকায় বছরে অতিরিক্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দীর্ঘ সময়ে নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। আমরা আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। এতে একদিকে উজান থেকে আসা পানির ক্ষয়ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে।’
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়কে প্রধান কৃষিনির্ভর অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলে বড় বড় মিল-কারখানা ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ঈদের পরপরই চূড়ান্ত বৈঠক হবে। শিল্পায়ন হলে কৃষকদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদেরও কর্মসংস্থান হবে। আজ যারা ৫ হাজার টাকা আয় করছেন, আগামী কয়েক বছরে তাদের আয় দ্বিগুণ করাই আমাদের লক্ষ্য।’
দেশের স্বাধীনতা এসেছে জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এবং তাদের সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই উন্নয়নের কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করেন এবং সন্ধ্যায় স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।