সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন এবং ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন সিলটি পাঞ্চায়িত; একই সঙ্গে এসব দাবি ঘিরে কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন সংগঠনটির নেতারা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সিলেট নগরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এ সময় সাধারণ সম্পাদক এম তাজ রীহান জামানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১৮ এপ্রিল সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে জনসভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর অনুমতির আবেদন করা হলে পরদিন তাদের ডেকে প্রথম দুটি দাবি বাদ দিয়ে কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সংগঠনটি নির্ধারিত জনসভা স্থগিত ঘোষণা করে বলে জানান নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা সিলটি পাঞ্চায়িতের অন্যতম প্রধান দাবি সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন। তাদের দাবি অনুযায়ী, বাংলা ভাষার বাইরে নিজস্ব বর্ণমালা থাকা দেশের একমাত্র বিভাগ সিলেট, যেখানে ‘সিলটি নাগরী’ লিপিতে ‘সিলটি’ ভাষা ব্যবহৃত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই ভাষা নিয়ে দেশে-বিদেশে গবেষণা হয়েছে এবং অনেকেই উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, কানাডা ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে একাধিক সরকারি ভাষা থাকার দৃষ্টান্তও তুলে ধরা হয়।
নেতারা দাবি করেন, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ ‘সিলটি’ ভাষায় কথা বলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার তাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেবে। অন্যথায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থায়, উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তারা।